সাতক্ষীরা-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে আশাশুনি-কালিগঞ্জ এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী আলাউদ্দিন। তবে এই কমিটির আরেক সদস্য ডা. শহিদুল আলমের সমর্থকরা মনে করছেন তাদের নেতাই যোগ্য প্রার্থী ছিলেন।
ফলে বিএনপির দুই নেতার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনা।
বৃহস্পতিবার বিকালে কালিগঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় আলাদা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থান নেয় দুই গ্রুপ। এসময় একটি ট্রাক ও পিকআপ ভ্যান থেকে লাঠিসোটা, ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্রসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। জব্দ করা হয় একটি মিনিট্রাক ও তিনটি পিকআপ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, আশাশুনি থানার বাটরা গ্রামের মামুন, কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের শামীম, একই উপজেলার কাশীবাটি গ্রামের আব্দুল মান্নান এবং পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামের শুভঙ্কর কুমার ঘোষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কালিগঞ্জ সরকারি কলেজ মোড় থেকে কাজী আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি গণমিছিল বের হয়ে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ফুলতলা মোড়ে সমাবেশে তিনি বক্তব্য রাখেন।
একই সময়ে শহিদুল আলমের সমর্থকেরা তার মনোনয়নের দাবিতে কালো পতাকা মিছিল বের করেন। শহিদুল আলমপন্থীরা মিছিল নিয়ে কাজী আলাউদ্দিনের সমাবেশস্থলের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায় সেনাবাহিনী।
পুলিশ জানিয়েছে, এসময় সংঘর্ষ সৃষ্টির জন্য একদল নাশকতাকারী বিপুল পরিমাণ গুলতি, লোহার বল, লাঠিসোটা, ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্রসহ প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেনা সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা অস্ত্র ও লোহার টুকরা নদীতে ফেলে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় কালিগঞ্জ সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মোহাম্মদ সাজিদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে একটি মিনি ট্রাক, তিনটি পিকআপ ভ্যান থেকে লাঠি, ইটপাটকেল, গুলতি, লোহার পাইপ ও ধারালো লোহার টুকরা জব্দ করা হয়। পরে আটককৃত চারজনসহ জব্দকৃত মালামাল সামগ্রী পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘দুই পক্ষের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। পরে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে ইট-পাটকেল ও বাঁশের লাঠি উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত সামগ্রী থানায় জমা দেয়া হয়েছে।’
বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং অতিরিক্ত সেনা টহল জোরদার করা হয়েছে।


