বাংলাদেশের একটি আদালত দুর্নীতির মামলায় যুক্তরাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ও লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। লেবার পার্টি এই রায়কে ‘অন্যায্য ও ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়ার ফল’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
সোমবার দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালতের বিচারক মো. রবিউল আলম এই রায় দেন। একই রায়ে মামলার অন্যান্য আসামিদেরও অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
ঢাকার পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে করা দুটি মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিককে চার বছর এবং শেখ রেহানার সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীকে পৃথকভাবে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও আরোপ করা হয়েছে। অনাদায়ে প্রত্যেককে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার অন্য আসামিদের ৫ বছর করে কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পৃথক দুর্নীতি মামলায় তার খালা, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পরিবারের আরও দুই সদস্যকে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সব আসামির বিচার অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় লেবার পার্টির এক মুখপাত্র বলেন, ‘টিউলিপ সিদ্দিককে এই মামলায় ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগের বিস্তারিত সম্পর্কেও তাকে কখনো জানানো হয়নি।’
তিনি বলেন, তার আইনি দলের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ সাড়া দেয়নি।
লেবার পার্টির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার নিশ্চিত করা মৌলিক নীতি। যেহেতু তা মানা হয়নি, আমরা এই রায়কে স্বীকৃতি দিতে পারি না।’
চার বছরের এই সাজা গত বছরের শেষের দিকে দেওয়া দুই বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হলো। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার উপকণ্ঠে একটি জমি বরাদ্দে ‘বিশেষ ক্ষমতা’ ব্যবহার করতে খালাকে প্রভাবিত করার অভিযোগে টিউলিপ সিদ্দিককে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
টিউলিপ সিদ্দিক এই বিচারপ্রক্রিয়াকে ‘শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ ও প্রহসনমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘পুরো বিষয়টি আমাকে বিস্মিত করেছে। দেড় বছর ধরে আমার বিরুদ্ধে অপবাদ ছড়ানো হলেও বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি।’
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে টিউলিপ সিদ্দিকের খালার (শেখ হাসিনা) সঙ্গে সম্পর্ক ও লন্ডনের কিছু সম্পত্তি ব্যবহারের প্রশ্ন ওঠায় তিনি যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি মন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিয়োজিত নৈতিকতা উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাস বলেন, তিনি কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাননি, তবে এই সম্পর্কের সম্ভাব্য সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে আরও সতর্ক না হওয়াটা ‘দুঃখজনক’।
পদত্যাগপত্রে টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, তিনি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছেন, তবে সরকারের জন্য ‘বিভ্রান্তির কারণ’ হতে না চেয়ে দায়িত্ব ছাড়ছেন।
শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলাগুলো শুরু হয় তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর। ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে তিনি ভারতে পালিয়ে যান।
গত বছর ছাত্র আন্দোলন দমনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এই বিচারকে শেখ হাসিনা ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’বলে মন্তব্য করেছেন।


