মাগুড়ায় ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে এবার সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা তৈরি করে আলোচনায় কৃষক আমজাদ হোসেন।
রোগে আক্রান্ত হয়ে জার্মানির হোমিওপ্যাথিক ওষুধে সুস্থ হওয়ার পর থেকেই জার্মানির প্রতি বিশেষ অনুরাগ জন্ম নেয় মাগুরা সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেনের।
সেই ভালোবাসা থেকেই ২০১৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে তিনি তৈরি করেছিলেন সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা। সময়ের সঙ্গে সেই পতাকার দৈর্ঘ্য বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৭ কিলোমিটারে।

বুধবার মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের একটি স্কুল মাঠে দীর্ঘ এই পতাকা প্রদর্শন করা হয়। পতাকাটি দেখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে ভিড় করেন।
আমজাদ হোসেন জানান, পতাকা তৈরিতে এখন পর্যন্ত তার প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এই অর্থের বড় একটি অংশ তিনি নিজের জমি বিক্রি করে সংগ্রহ করেছেন।
তার ভাষ্য, জার্মানির প্রতি কৃতজ্ঞতা থেকেই তিনি দেশটির সমর্থক হয়ে ওঠেন। ২০১৪ সালে জার্মানি বিশ্বকাপ জয়ের পর তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সে সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান দূতাবাসের একজন ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি তার গ্রাম পরিদর্শন করেন এবং তাকে জার্মান ফুটবলপ্রেমীদের একটি ফ্যান ক্লাবের সদস্য করা হয়। পরবর্তীতে মাগুরা স্টেডিয়ামে তাকে সংবর্ধনাও দেওয়া হয়।
আমজাদ হোসেন বলেন, ‘মানুষের ভালোবাসা ও উৎসাহ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। জার্মানির প্রতি কৃতজ্ঞতার কারণেই আমি এই পতাকা তৈরি করেছি। ভবিষ্যতেও এটি আরও বড় করতে চাই।’
তিনি জানান, আগামী বিশ্বকাপেও যদি জার্মানি ভালো ফল করে, তাহলে ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি জার্মান পতাকা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে তার।
আমজাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশের ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে ।


