সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। শুক্রবার ভোরে ওই বিমান হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে দক্ষিণ লেবাননজুড়ে তাদের বাহিনী একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহ জানায়, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষে তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলও রয়েছেন।
ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে এই সংঘাত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ অবসানে সদ্য সই হওয়া চুক্তিকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের পক্ষ থেকে ওই চুক্তিতে সব ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবাননে, তাৎক্ষণিক সামরিক অভিযান বন্ধের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চুক্তির লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি আবার আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের জন্য খুলে দেওয়া, পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে নতুন করে আলোচনার টেবিলে আনা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতেই তিনি এই চুক্তি সই করেছেন। তার মতে, যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল, আর্থিক বাজার অস্থির হয়ে উঠেছিল এবং মুদ্রাস্ফীতিও বেড়েছিল। চুক্তি সইয়ের পর বুধবার রাতেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১২ দশমিক ৫ মিলিয়নের বেশি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ এই চুক্তির অংশ নয়। তবুও ইরানের দাবি, ইসরায়েলকে অবশ্যই দক্ষিণ লেবাননের বড় অংশ থেকে সরে যেতে হবে। ওই অঞ্চলটি বর্তমানে তেলআবিবের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন-তেহরানের অন্তর্বর্তী চুক্তিতে এই প্রত্যাহারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যতক্ষণ হিজবুল্লাহর হুমকি পুরোপুরি শেষ না হচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী লেবানন ছাড়বে না।
অন্যদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি তার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সইয়ের আগের দিন তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের অস্তিত্ব টিকত না। নেতানিয়াহুকে লেবানন ইস্যুতে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
সূত্র: এপি


