বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) উদ্যোগে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্ত্বর থেকে মিছিলটি বের হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক নিবন্ধনধারী চাকরিপ্রত্যাশীসহ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে একাত্মতা প্রকাশকারী শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মিছিল থেকে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের সুযোগ বন্ধের দাবি জানানো হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘একসাথে চলে না, শিক্ষা আর বাণিজ্য’, ‘বাণিজ্য না শিক্ষা, শিক্ষা শিক্ষা’, ‘চাকরি চাই যোগ্যতায়, কমিটি বা কোটায় নয়’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে দিয়ে বটতলায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে পরে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে জাকসুর এজিএস ফেরদৌস আল হাসান বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষাব্যবস্থার জন্য নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা খাতে নতুন করে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষা একটি দেশের ভিত্তি। তাই গত ৩ আগস্টের বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হলে শিক্ষার্থীরা তা মেনে নেবে না এবং এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।’
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘গভর্নিং বা ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হলে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, ঘুষ ও নিয়োগ-বাণিজ্যের আশঙ্কা বাড়বে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ না করে যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু রাখা প্রয়োজন। গত ৩ আগস্টের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাতিলের পাশাপাশি শিক্ষা খাত নিয়ে ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্টদের মতামত বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় জাকসুর পরিবেশ সম্পাদক সাফায়েত মীর, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাপ্পী, কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতীসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ থেকে এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থা বহাল রাখা, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে আরও বড় পরিসরে আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।


