শেষ চার ওভারে ৪২, তিন ওভারে ৩৩, দুই ওভারে ২৬ ও শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২১ রানের। চট্টগ্রামে উইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১৫০ রান তাড়া করতে নেমে তানজিদ তামিমের ৬১ রানের ইনিংসের পরও বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছে ১৪ রানে। পুরো ২০ ওভার খেলার পরেও ৮ উইকেটে ১৩৫ রানের বেশি করতে না পারায় এক ম্যাচ আগেই সিরিজ হারলেন লিটন দাসরা। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ আজ ক্যাচ ছেড়েছে চারটা, শেষ ওভার করিয়েছে স্পিনার আকিল হোসেনকে দিয়ে।
রান তাড়ায় নেমে এক প্রান্তে ব্যাটাররা ইনিংস বড় করতে না পারলেও তানজিদ ছিলেন দারুণ ছন্দে। তিন ছক্কা, তিন চারে ৬১ রানের ইনিংস খেলেছেন ঠিকই। কিন্তু ৪৮ বল খেলার মতো লাক্সারি টি-টোয়েন্টিতে নেই, যদি না ইনিংসটা ৭০ বা ৮০ পেরিয়ে যায়। নবম ফিফটি ছোঁয়া এই বাঁহাতি ব্যাটার আউটও হয়েছেন ইনিংসের ১৮-তম ওভারে। যখন তার থাকা দরকার ছিল সবচেয়ে বেশি। রোমারিও শেফার্ডের বলে স্ল্যাশ করে থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়েছেন ব্রান্ডন কিংয়ের হাতে।
এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে সাইডে বেঞ্চে বসে থাকা জাকের আলীর ১৮ বলে ১৭ রানের ইনিংস চট্টগ্রামের দর্শকরা একদমই পছন্দ করেননি। স্লোয়ার, বাউন্সার কিংবা লেংথ বল; সবকিছুতেই খেলেছেন ক্রস ব্যাটেড শট। ব্যাটে-বলে করতেই হিমশিম খেয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। একটা পর্যায়ে গ্যালারি থেকে ‘ভুয়া! ভুয়া!’ স্লোগানও ভেসে এসেছে তার উদ্দেশ্যে।
টপ অর্ডারের ব্যাটিং দুর্দশা কাটেনি এই ম্যাচেও। এশিয়া কাপ আর আফগানিস্তান সিরিজে উড়তে থাকা সাইফ হাসানের ব্যাটে রান নেই উইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে। চট্টগ্রামে দুই ইনিংসেই আউট হয়েছেন সিংগেল ডিজিটে। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ১৭ বলে ২৩ রানের সেট হয়ে যাওয়া ইনিংসের পর আকিল হোসেনের আর্ম বলে বোল্ড হয়ে স্টাম্প খুইয়েছেন লিটন দাস। চারে নেমে ১৪ বলে ১২ রানের ধীরগতির, প্রশ্নবিদ্ধ ইনিংস তাওহিদ হৃদয়ের।
আলিক আথানেজ আর শাই হোপের ৫৯ বলে ১০৫ রানের জুটির পরও উইন্ডিজের সংগ্রহ ১৫০ পেরোয়নি। অবাক লাগার মতোই ব্যাপার। প্রথম দশ ওভার শেষে যেখানে তাদের রান রেট ছিল প্রায় ওভারপ্রতি ৯ -এর বেশি, সেখানে থমকে যেতে হয়েছে ১৪৯ রানে। ৩০ বলে ফিফটি ছোঁয়া এই দুজনে যেভাবে ব্যাট চালাচ্ছিলেন, তাতে করে বাংলাদেশের বোলাররাও ভাবছিলেন, ২০০ না পেরিয়ে যায় উইন্ডিজ। মিড ইনিংসে নাসুম আহমেদ নিজেও বলেছেন এই কথা।
উইন্ডিজের ১০৫/১ থেকে ১৪৯/৯ স্কোরবোর্ডের নেপথ্যের কারিগর অবশ্য নাসুমের সাথে মোস্তাফিজও। নিজের শেষ ওভার করতে এসে জোড়া আঘাতে থামিয়েছেন রানের চাকা, শেষের লাগামটা টেনেছেন মোস্তাফিজ। যদিও ইনিংসের প্রথম বলেই ব্র্যান্ডন কিংয়ের ক্যাচ ফেলেছেন লিটন, তবে পরের ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে মিড অফে ক্যাচ দিয়েছেন এই ডানহাতি ওপেনার। নিজের দ্বিতীয় ফিফটি ছোঁয়া আথানেজ অবশ্য থামতে পারতেন আগেই, যদি তানজিমের বলে মিড অনে তার মারা শটে বলটা হাতে জমাতে পারতেন তাওহিদ হৃদয়। অবশ্য বুলেট গতির সেই শট থামাতে পারেননি তিনি। জীবন পেয়ে আথানেজ ইনিংস টেনে নিয়ে গেছেন ৫২ পর্যন্ত।
শুরুতে প্রথম তিন ওভারে ৩২ রান দেয়া নাসুম নিজের শেষ ওভার করতে আসেন ইনিংসের ১২ তম ওভারে। এসেই জোড়া আঘাত। তার গুড লেংথ বলে স্লগ সুইপ করে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েছেন উড়তে থাকা আথানেজ, পরের বলেই বোল্ড হয়েছেন শারফেন রাদারফোর্ড। নিজের দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে ৫২ রান করে হোপকে থামান মোস্তাফিজুর রহমান, নিজের ট্রেডমার্ক স্লোয়ার অফ কাটারে। আর নিজের শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে নিয়েছেন রোমারিও শেফার্ড আর খারি পিয়েরের উইকেট। ৪ ওভার বল করে মাত্র ২১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে থামিয়েছেন ক্যারিবিয়ানদের রান তোলার গতি।
মাঝে দারুণ বল করেছেন রিশাদ হোসেনও। বড় ইনিংসে খেলার আগেই থামিয়েছেন উইন্ডিজের আগের ম্যাচের ব্যাটিং হিরো রভম্যান পাওয়েলকে। ঝুলিয়ে দেয়া বলে শট খেলে ব্যাকওয়ার্ড


