সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন চ্যালেঞ্জ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশনা চেয়ে রিটের শুনানি আপাতত হচ্ছে না। এ বিষয়ে আগের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আপিল করবে। সেই আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টে রিটের শুনানি হচ্ছে না।
সোমবার শুনানির জন্য বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চে শুনানি হয়। রিট আবেদন কার্যতালিকার ৯৬ নম্বর ক্রমিকে ছিল। রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
এদিকে শুনানির আগে সাংবাদিকরা কোর্টে উপস্থিত হলে, সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ অফিসার সাংবাদিকদের আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে সাংবাদিকরা আদালত কক্ষ ত্যাগ করলে তাদের অনুপস্থিতিতেই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
পরে শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে আগামীকালের মধ্যে আপিল করবে। আদালতের প্রত্যাশা ইতোমধ্যে সচিবালয়ের যে স্থাপনা আছে, সে গুলোকে সুপ্রিম কোর্টের প্রতি সম্মান জানিয়ে যেন সরিয়ে ফেলা না হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, তিনি আদালতের প্রত্যাশা শুনেছেন এবং এটি সরকারকে অবগত করবেন।
শুনানির সময় আদালত কক্ষে সাংবাদিকদের থাকতে না দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি মামলার শুনানি শুরু হওয়ার আগেই সাংবাদিকের উপস্থিতির বিষয়টি আদালতের নজরে এনেছি।’
আদালত বলেছে, এই বিষয়টি এই আদালতের আদেশ নয়। তারা কোনো আদেশ দেয়নি। আমাদের আপিল বিভাগের যে নির্দেশনাটি আছে, সেই নির্দেশনাটি আদালতের অফিসাররা ফলো করে আপনাদের এই নির্দেশনা দিয়েছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালতে বলেছি আগের মামলা যেহেতু আপিল বিভাগে আপিল দায়ের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে, সুতরাং ওই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এর শুনানি সমীচীন হবে কিনা। আমরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে শিগগিরই আপিল করব।’
এর আগে সাত আইনজীবীর দায়ের করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের জন্য তিন মাসের মধ্যে পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। গত ৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়।
হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ শিরোনামে গত বছরের ৩০ নভেম্বর অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। একই বছরের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন করা হয়। বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাস করা হয়।
এরপর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইনের বৈধতা নিয়ে সাত আইনজীবী রোববার ১৯ এপ্রিল রিটটি করলেন। রিটের আবেদনে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন, ২০২৬ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়। রুল হলে বিচারাধীন অবস্থায় গত বছরের ১১ ডিসেম্বর হতে শুরু হওয়া সচিবালয়ের কার্যক্রমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে রিটে বিবাদী করা হয়।


