‘ল ডক্টর’ পেজের আড়ালে প্রতারণা: শফিক নজরুল ৪ দিনের রিমান্ডে

‘ল ডক্টর’ পেজের আড়ালে প্রতারণা: শফিক নজরুল ৪ দিনের রিমান্ডে
মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এই আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ফেসবুকে ‘ল ডক্টর’ নামে পেজ খুলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় নিশ্চিত পাসের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মো. শফিক নজরুলকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ টাইমস অব বাংলাদেশকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতকে বলেন, বার কাউন্সিল পরীক্ষা ও সরকারকে বিতর্কিত করার জন্য এই আসামি সব সময় চেষ্টা চালিয়ে গেছে। তার চটকদারি বিজ্ঞাপনের আড়ালে নানা রকম অনিয়ম ও প্রশ্ন বাণিজ্য রয়েছে। তাকে রিমান্ডে নিলে ঘটনার আদ্যোপান্ত জানা যাবে।

অন্যদিকে আদালতের অনুমতি নিয়ে আসামি শফিক নজরুল নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আমি জড়িত নই, সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। কার কাছ থেকে প্রশ্ন বাবদ টাকা নিয়েছি, তার কোনো প্রমাণ নেই। আমি পরীক্ষার আগে সাজেশন দিয়েছি, ১০০টি প্রশ্নের মধ্যে ১০০টিই কমন পড়েছে। আমি একজন এক্সপার্ট হিসেবে সাজেশন দিতে পারি। এটি মিথ্যা মামলা।’

আরও পড়ুন

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, খুরশীদ আলম নামের এক ভুক্তভোগী শেরেবাংলা নগর থানায় এই মামলা করেন। মামলায় বলা হয়, শফিক নজরুল ফেসবুকে ‘ল ডক্টর’ পেজের মাধ্যমে ‘১০০টি এমসিকিউ পড়লেই নিশ্চিত পাস’–এমন বিজ্ঞাপন প্রচার করে বার কাউন্সিল পরীক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতেন। এক পরীক্ষার্থী যোগাযোগ করলে শফিক নজরুল নিজেকে প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ দাবি করেন এবং বিশ্বাস অর্জনের জন্য জাইমা রহমান ও অ্যাটর্নি জেনারেলের পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যবহার করেন।

এরপর পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৮ লাখ টাকা দাবি করেন এবং ব্যাংক ও নগদের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা নেন। কিন্তু গত ১২ জুন অনুষ্ঠিত বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষায় ওই ভুক্তভোগী অকৃতকার্য হলে প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

পুলিশ জানিয়েছে, একই কৌশলে তিনি আরও অনেকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। মামলার নথিতে আবুল হাশেমের কাছ থেকে ৩ লাখ, দিলরুবা আক্তার দিপার কাছ থেকে ৬ লাখ, মোসা. মিন্টু হকের কাছ থেকে ৫ লাখ ৯০ হাজার, আব্দুল আউয়ালের কাছ থেকে ৮ লাখ এবং মো. সোহাগ মোল্লার কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে, যার তদন্ত চলছে।

এছাড়া এদিন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আল এমরানের দায়ের করা শেরেবাংলা নগর থানার আরেকটি মামলায় শফিক নজরুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আদালত। এই মামলার অভিযোগে বলা হয়, শেরেবাংলা নগরের একটি ফ্ল্যাটে অদম্য কোচিং সেন্টার পরিচালনার আড়ালে ‘ল ডক্টর’ পেজ ব্যবহার করে বার কাউন্সিল পরীক্ষার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রচার করা হতো।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad