সহিংসতা ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য হুমকি: ইডব্লিউএ

সহিংসতা ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য হুমকি: ইডব্লিউএ
ইলেকশন ওয়ার্কিং অ্যালায়েন্সের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

নির্বাচনী আচরণবিধির ব্যাপক লঙ্ঘন, ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতা এবং এসব ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা দৃশ্যমান হওয়ায় বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন ইলেকশন ওয়ার্কিং অ্যালায়েন্স (ইডব্লিউএ)।

শুক্রবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ সন্দেহের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইডব্লিউএ’র প্রেসিডেন্ট ড. মো. শরিফুল আলম বলেন, নাগরিকরা দীর্ঘ সময় ধরে অবাধে ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত। গত দুই দশকে ভোটাররা কোনো জাতীয় নির্বাচনেই ভয় বা বাধা ছাড়া ভোট দিতে পারেননি।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা দেশের গণতন্ত্র, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের ভবিষ্যতের জন্য একটি চূড়ান্ত নির্ধারক হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশজুড়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, কালো টাকার ব্যবহার এবং সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শেরপুরে উপজেলা জামায়াতের এক নেতার মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের কোনো পদক্ষেপ দেখতে না পাওয়ায় গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেন তিনি।

ইডব্লিউএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৪৪টি জেলার প্রায় ৪০টি সংসদীয় আসনে ১০৫টিরও বেশি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে ২২টি সহিংসতা ও হামলার ঘটনা, যার মধ্যে প্রচারণায় বাধা, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা এবং নারী কর্মীদের হেনস্তার মতো বিষয় রয়েছে।

আরও পড়ুন

এছাড়া ২৭টি ক্ষেত্রে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বড় রঙিন বিলবোর্ড ও ব্যানার ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

১৬টি ঘটনায় কার্ড বা খাবার বিতরণের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং ৮টি ঘটনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিশুদের নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করা হয়েছে।

নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. শরিফুল আলম বলেন, ‘নারী কর্মীরা প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের কাছে শারীরিক হেনস্তা ও বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।’

এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নীরবতাকে তিনি ‘রহস্যজনক ও হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেন।

পর্যবেক্ষকদের অনলাইন নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে জটিল দাবি করে ইডব্লিউএ জানায়, এটি স্বাধীন পর্যবেক্ষণে বাধা সৃষ্টি করছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই প্রক্রিয়া সহজ করা জরুরি।

পাশাপাশি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘অনেক সরকারি কর্মকর্তা প্রকাশ্যেই রাজনৈতিক আনুগত্য প্রদর্শন করছেন, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা।’

প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সিসিটিভি এবং বডি ক্যামেরা ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও ইসি তা নিয়ে রহস্যজনকভাবে অনীহা দেখাচ্ছে।

ইডব্লিউএ সংবাদ সম্মেলনে জানায়, দেশের ৪৪টিরও বেশি জেলায় এবং প্রায় ৪০টি সংসদীয় আসনে ১০৫টিরও বেশি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা নির্বাচনী আইন প্রয়োগে একটি সমন্বিত ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad