মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তার আইনজীবী এম সারোয়ার হোসেন বলেছেন, সেনা কর্মকর্তাদের কেউ সরাসরি গুমের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের পক্ষে আর আইনি লড়াই চালাবেন না তিনি।
এক ফেসবুক পোস্টে সারোয়ার জানান, এমন কোনও অভিযোগপত্রে যদি কারও সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, তবে তিনি আর সেই কর্মকর্তার পক্ষে দাঁড়াবেন না।
অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে ঢাকার হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ (আইসিটি-১)-এ হাজির করা হয় বুধবার। পরে তাদের ঢাকার সেনানিবাসে অবস্থিত উপ-কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। তার পরই এমন বক্তব্য দেন এই আইনজীবী।
সারোয়ার হোসেন জানান, তার পেশাগত দায়িত্ব হচ্ছে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। তিনি কেবল তাদেরই পক্ষে থাকবেন, যারা নির্দোষ বা যারা ঘটনাটি প্রতিরোধ করতে না পারলেও সরাসরি এতে জড়িত ছিলেন না।
তিনি নিশ্চিত করেছেন যে তিনি ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হকের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাবেন। এ দুজনকে সততা ও পেশাদারিত্বের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সেনা আইন সংশোধনের সমালোচনা করে সারোয়ার বলেন, ‘রায় ঘোষণার আগেই বরখাস্ত বা অন্যান্য শাস্তির বিধান রাখা মানে “বিচারের আগে শাস্তি দেওয়া”। এ ধরনের ব্যবস্থা ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়া দুর্বল করে এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত করতে পারে।’
বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আইনজীবী সারোয়ার ২০২৪ সালের জুলাইয়ের বিদ্রোহ ও পরবর্তী রূপান্তর পর্বে তার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো নির্দোষ কর্মকর্তাকে মিথ্যা বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় যেন শাস্তি দেওয়া না হয়।
সামরিক আইন সংশোধন নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে এসব মন্তব্য করেছেন আইনজীবী সারোয়ার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর আইনটি ন্যূনতম তিনবার সংশোধন করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিচারপূর্ব শাস্তির ধারা বহাল থাকলে তা ন্যায়বিচারের মান ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং ভবিষ্যতের সামরিক আদালতের নিরপেক্ষ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।


