প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে তার সরকার।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পূর্বে সারা দেশে আমি গিয়েছি। তখন মা-বোনদের বলেছি নির্বাচিত হলে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। আমরা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছি এবং ধীরে ধীরে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। বিশেষ করে যারা গ্রামে বসবাস করে তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’
শনিবার সন্ধ্যায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ২২ জেলার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘সরকার গঠনের পরপরই আমরা এক মাসের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছি। আজকে চাঁদপুরে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে কার্ড বিতরণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে আপনারা সবাই এই কার্ড পাবেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুধু ফ্যামিলি কার্ডই দেব না। কারণ, এই দেশে সবচাইতে বেশি সংখ্যা হচ্ছে কৃষকদের। আমরা কৃষকদের কৃষি কার্ড দেব। এটি পেলে কৃষকরা উপকৃত হবে।’
তারেক রহমান বলেন, আগামী যে বাজেট, সেই বাজেটে আমরা শিক্ষার ওপর সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রেখেছি। এই বরাদ্দ থেকে দেশের যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো প্রয়োজন তা করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে করে আগামী প্রজন্মকে ভালোভাবে পাঠদান করা যায়।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় চাঁদপুর জেলায় একটি ইপিজেড করার ব্যবস্থা করতে বিডার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমানকে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, সম্ভাব্যতা যাচাই করে এটি বাস্তবায়ন হলে যেমন চাঁদপুর জেলার লোকজনের কর্মসংস্থান হবে, পাশাপাশি অন্য জেলার লোকজনও কাজ পাবে।
অনুষ্ঠানে দশজন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এতে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন চাঁদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, জেলা বিএনপির সভাপতি ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. জালাল উদ্দিন ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সলিম উল্যাহ সেলিম। অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


