স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে তার বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার বিকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ইস্যু, অনিয়মিত অভিবাসন রোধ, রোহিঙ্গা সংকট, পুলিশ বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তাসহ দ্বিপাক্ষিক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে হাইকমিশনার নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। আলোচনার প্রেক্ষিতে হাইকমিশনার উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার একটি শক্তিশালী ও ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, উন্নত দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়াই প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় এক লক্ষ বাংলাদেশি বসবাস করছেন এবং তাদের মধ্যে প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে বলেও তিনি জানান।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এই ধারা অব্যাহত রাখতে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর তৎকালীন অস্ট্রেলীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্গের ঢাকা সফরের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
এ ছাড়া আগামী জুন মাসে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরের প্রস্তুতি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চলমান পুনর্গঠন কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রী হাইকমিশনারকে অবহিত করেন।
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোকপাত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘উত্তরাধিকার সূত্রে আমি একটি নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পেয়েছিলাম। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত আড়াই মাসে পরিস্থিতির দৃশ্যমান ও যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই ধারাবাহিক উন্নয়নে সন্তোষ প্রকাশ করে হাইকমিশনার বর্তমান সরকারের প্রতি অস্ট্রেলিয়ার আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে নতুন জনবল নিয়োগ ও উন্নত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সহায়তা কাজে লাগানোর আহ্বান জানালে হাইকমিশনার জানান, বর্তমানে এ ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি না থাকলেও বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।
এ ছাড়া পারস্পরিক আইনগত সহায়তা সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে বলে মন্ত্রী সভায় উল্লেখ করেন।
অনিয়মিত ও অবৈধ অভিবাসন রোধে দুই দেশের ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে জানিয়ে সুসান রাইল বলেন, বৈধ পথে অভিবাসনের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে অস্ট্রেলিয়া সচেষ্ট রয়েছে।
মন্ত্রী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশও দক্ষ ও শিক্ষিত জনবল প্রেরণের মাধ্যমে নিয়মিত অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করতে আগ্রহী।
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিশ্ববাসীর জোরালো ভূমিকা ও সহযোগিতা ছাড়া বাংলাদেশের একার পক্ষে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভার দীর্ঘকাল বহন করা অসম্ভব।
গত ৪ মে অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির প্রথম সভার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্যাম্পে মাদক ও অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক বেশি তৎপর রয়েছে। হাইকমিশনার রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কাউন্সিলর রুবেন গ্রে এবং প্রথম সচিব (রাজনৈতিক) হ্যারি থম্পসন বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।


