মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক অধিকারকর্মীসহ দেশের ২৭ জন নাগরিক সরকারকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, আইএলওর কনভেনশন ১৪১ এবং ১৬৯ দ্রুত অনুস্বাক্ষর করা জরুরি।
তারা জানান, ২২ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকার আইএলওর পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কনভেনশন ১৯৮১ (নম্বর ১৫৫), কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার মান উন্নয়নে প্রচারণামূলক কাঠামো কনভেনশন ২০০৬ (নম্বর ১৮৭) এবং কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধ কনভেনশন ২০১৯ (নম্বর ১৯০) অনুস্বাক্ষর করেছে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট সরকার গুম ও নির্যাতনবিরোধী জাতিসংঘ সনদেও অনুস্বাক্ষর করেছে বলে তারা রোববার এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ কনভেনশনগুলো অনুস্বাক্ষর করায় শ্রমিক ও জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হলো। পাশাপাশি শ্রম আইন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিধান সংস্কারের ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তবে দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৪ শতাংশ কৃষি খাতে নিয়োজিত থাকলেও কৃষিশ্রমিকরা এখনো সবচেয়ে অবহেলিত বলে চিহ্নিত করা হয়। তাই গ্রামীণ শ্রমজীবী কৃষকদের সংগঠন করার অধিকারের স্বীকৃতি বিষয়ক আইএলও কনভেনশন ১৪১ অনুস্বাক্ষর এখন সময়ের দাবি বলে তারা মত দেন।
বিবৃতি আরও বলা হয়, বাংলাদেশের প্রায় ২ শতাংশ আদিবাসী জনগোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার উল্লেখ করে আদিবাসী ও উপজাতি জনগণের অধিকার সুরক্ষায় আইএলও কনভেনশন ১৬৯ অনুস্বাক্ষর জরুরি বলেও তারা দাবি করেন। তাদের প্রত্যাশা, বৈষম্য দূরীকরণের অঙ্গীকার অনুযায়ী সরকার এই দুটি কনভেনশনে দ্রুত অনুস্বাক্ষরের উদ্যোগ নেবে এবং বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আনু মুহাম্মদ, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুলতানা কামাল, নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির, টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না, নারী পক্ষের সদস্য শিরীন পারভীন হক ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।


