পাঁচ দিনের পূর্ব এশিয়া সফরের শেষ ধাপে দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বুধবার সকালে এয়ারফোর্স ওয়ানে জাপানের টোকিও থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানের গিমহে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সেখানে তার রাজনৈতিক সমাবেশের জনপ্রিয় গান ‘ওয়াইএমসিএ’ বাজিয়ে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেন দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। ট্রাম্পও এসময় হাস্যরসে মেতে ওঠেন। গানের তালে পা মিলিয়ে করমর্দন করেন স্বাগতিক দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে। এরপর তিনি হেলিকপ্টারে চড়ে গিয়ংজুর উদ্দেশ্যে রওনা হন।
সেখানেই ব্যবসায়ীদের এপেক সম্মেলনে (এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন সামিট) ট্রাম্প বক্তব্য দেবেন এবং পরে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানেই ট্রাম্পকে ঐতিহাসিক সিল্লা রাজত্বের ‘গোল্ডেন ক্রাউনের’ রেপ্লিকা উপহার দেবেন লি।
লির অফিস জানিয়েছে, ‘কোরীয় উপদ্বীপে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও যৌথ উন্নয়নের নতুন যুগ তৈরিতে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র একত্রে কাজ করার’ নিদর্শন এ উপহার।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার অসমাপ্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুই নেতা সমাধানের পথে এগোবেন বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। এরপর বৃহস্পতিবার সেখানেই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকের কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বর্ধিত শুল্ক প্রভাবের মধ্যে ট্রাম্প-শি বৈঠক নিয়ে আশাবাদী বৈশ্বিক বাজার বিশ্লেষকরাও।
ওয়াশিংটনভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ব্রান্সউইক গ্রুপের সিনিয়র উপদেষ্টা ক্রিস্টোফার পাডিলার মতে, ট্রাম্প বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে একাধিক রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে যৌথ বৈঠকের চেয়ে একান্ত বৈঠক বেশি পছন্দ করেন। এমনকি ট্রাম্প এপেক নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে না গিয়ে ‘এপেক সিইও সম্মেলনে’ ভাষণ দেবেন।
এদিকে মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে ট্রাম্পের রেয়ার আর্থ (দুর্লভ খনিজ) চুক্তির পর পারমাণবিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের দক্ষিণ কোরিয়া সফরকে কেন্দ্র করেই নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতার জানান দিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র চালিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রশাসন।

তবে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ‘তুচ্ছ ঘটনা’ বলে উড়িয়ে দেন ট্রাম্প। তিনি জানান, এবার তিনি পুরোপুরি চীন নিয়ে আলোচনায় মনোনিবেশ করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো। আমি মনে করি, আমাদের দেশ ও বিশ্ব উভয়ের জন্যই এই বৈঠকে ভালো ফল আসবে।’
শি-এর সঙ্গে বৈঠক সফল হলে যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক হ্রাস করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। তবে বিনিময়ে বেইজিংকে মাদক ফেন্টানিল উৎপাদনের কাঁচামাল রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে হবে বলে দাবি করেন তিনি।
চীনের সঙ্গে আলোচনায় তাইওয়ান ইস্যু থাকবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না শি-এর সঙ্গে বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু তোলা হবে কিনা। আমরা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী।’
অন্যদিকে তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং মঙ্গলবার বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন ট্রাম্প এই বৈঠকে তাইওয়ানকে ‘ত্যাগ’ করবেন না। তার দাবি, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের শাসনে থাকাকালীন চীন তাইওয়ানে হামলা চালাবে না।

গিয়ংজুই ট্রাম্পের পূর্ব এশিয়া সফরের শেষ গন্তব্য। এই সফরে তিনি মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, জাপানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং একাধিক বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। সেইসঙ্গে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে শান্তি চুক্তিতে ভূমিকা রাখেন।


