বিখ্যাত ব্রিটিশ আলোকচিত্রী মার্টিন পার ৭৩ বছর বয়সে মারা গেছেন। দীর্ঘ জীবনে তার ক্যামেরায় ধরা পড়েছে ব্রিটেনের মানুষের নিত্যদিনের বর্ণিল ও ব্যতিক্রমী জীবন।
বিবিসি বলছে, শনিবার ব্রিস্টলে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।
মার্টিন পার ফাউন্ডেশনের পরিচালক জেনি স্মিথ এক বিবৃতিতে মৃত্যুর খবর জানানোর পাশাপাশি পরিবারের পক্ষ থেকে গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধও জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি স্ত্রী সুজি, মেয়ে এলেন, বোন এবং এক নাতি রেখে গেছেন।
১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি ‘দ্য লাস্ট রিসর্ট’ সিরিজের মাধ্যমে মার্টিন পার ব্যাপক পরিচিতি পান। নিউ ব্রাইটনে নিম্নবিত্ত শ্রেণির ছুটির দিনগুলোকে কেন্দ্র করে করা এই কাজটি সাহসী রঙ ব্যবহারের জন্য এবং বিন্যাসহীন সরল উপস্থাপনার কারণে যেমন প্রশংসিত হয়, তেমনি সমালোচিতও।
তবে এর প্রভাব ব্রিটিশ ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করে এবং পারকে আলোকচিত্রে স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেয়।
কর্মজীবনের শুরুর দিকে কিছু ঐতিহ্যবাদীর কাছে বহিরাগত বলে বিবেচিত হন পার। পরে ১৯৯৪ সালে ম্যাগনাম ফটোসে যোগ দিয়ে এর প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
তার নেতৃত্বে সংস্থাটি ডিজিটাল যুগে রূপান্তরের পথে নতুন গতি পায় এবং ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফির নতুন সম্ভাবনাকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।
পরে ২০১৭ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ব্রিস্টলে মার্টিন পার ফাউন্ডেশন। এ ফাউন্ডেশনটি তার কাজ সংরক্ষণের পাশাপাশি ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের আলোকচিত্রীদের সমর্থনে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠে।
মার্টিন পার নিজের কাজকে বর্ণনা করতেন ‘গম্ভীর কিন্তু সহজবোধ্য’ ফটোগ্রাফি হিসেবে।
ব্রিটিশ জীবনের রঙিন ছবি ধরা আলোকচিত্রী মার্টিন পারের মৃত্যুতে পৃথিবী এমন এক আলোকচিত্রীকে হারাল যার নিঃসংকোচ ও রঙিন ছবি পরিচিত জগতকে নতুন করে দেখার চোখ দিয়েছে।


