বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয় এবং ছায়ানট ভবনে হামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক স্পেশাল র্যাপোর্টিয়ার আইরিন খান।
একই সঙ্গে এ সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ‘মব’ হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অবশ্যই দ্রুত ও কার্যকরভাবে সরকারকে এসব হামলার তদন্ত করতে হবে এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
আইরিন খান বলেন, ‘এই মব আক্রমণগুলো হাওয়া থেকে ঘটেনি, বরং বিচারহীনতা দূর করা এবং সংবাদমাধ্যম ও শিল্প-সাহিত্যের স্বাধীনতা বজায় রাখতে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার কারণেই এগুলো ঘটেছে।’
জাতিসংঘের মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক স্পেশাল র্যাপোর্টিয়ার আইরিন খান বলেন, ‘আমি একজন অনুপ্রেরণাদায়ী নেতার পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে তার মৃত্যুর ঘোষণা আসার পর স্বাধীন সাংবাদিক ও শিল্পীদের ওপর যে পরিকল্পিত মব সহিংসতা চালানো হয়েছে, তারও কঠোর নিন্দা জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনরোষকে সাংবাদিক ও শিল্পীদের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যেকোনো সময়ের জন্যই বিপজ্জনক, বিশেষ করে এখন যেহেতু দেশ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের কণ্ঠস্বর ও ভিন্নমতের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আইরিন খান বলেন, ‘যখন বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও অপপ্রচার সংবাদমাধ্যম, সম্পাদক, সাংবাদিক, শিল্পী ও সুশীল সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও ভাবমূর্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলে।’
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের তরুণ নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসী গুলিতে আহত হয়ে তার মৃত্যু হয় পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হলে ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয় এবং ছায়ানট সংস্কৃতি–ভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালানো হয়। একই দিনে নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীরের ওপরও হামলা চালানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার মূলত বিচারহীনতার পুরোনো ধারাই অনুসরণ করেছে, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে হামলা বা হুমকির বিষয়গুলোকে স্বাভাবিক হিসেবে গণ্য করছে, বিজ্ঞপ্তিতে যোগ করা হয়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনায় সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনৈতিক ভাষ্যকার, কার্টুনিস্ট ও বিদ্রূপাত্মক (স্যাটায়ার) আধেয় নির্মাতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ও সংস্থাগুলো রাষ্ট্রীয় নয়, এমন পক্ষগুলোর হুমকি, শত্রুতাপূর্ণ আচরণ ও সহিংসতার শিকার হয়েছে।


