সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি।
শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কর্মবিরতি সাময়িক স্থগিত ও বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। ফলে বুধবার থেকে বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষায় ফিরছেন তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়–এটি বিবেচনায় নিয়ে ঘোষিত কর্মবিরতি সাময়িক স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বার্ষিক পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
পরীক্ষার অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা যে মানসিক চাপের মধ্যে ছিল, তা অনুধাবন করে শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এতে আরও বলা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও তাদের শিক্ষাজীবনকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। তাই বুধবার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
‘একই সঙ্গে আমাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া সমাধানের পথে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ কামনা করছি, ভবিষ্যতে শিক্ষা কার্যক্রম যাতে আর বাধাগ্রস্ত না হয়। যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মসূচি পালন করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। পরবর্তী সিদ্ধান্ত বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে’ বলেও জানানো হয়।
গত রোববার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদটিকে বিসিএস ক্যাডারভুক্ত করাসহ চার দাবিতে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি।
সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির বিবৃতিতে বলা হয়, ২৪ নভেম্বর থেকে মাধ্যমিকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
তবে চার দাবিতে সোমবার থেকে শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে যাওয়ায় চলমান বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। দাবি পূরণ হলে ছুটির দিনে পরীক্ষা কার্যক্রম চালানো হবে। একই সঙ্গে ডিসেম্বরে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
এর মধ্যে প্রাথমিকের শিক্ষকদের কর্মবিরতির মধ্যে সোমবার থেকে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এমনকি চিঠিতে ‘তৃতীয় সাময়িক’ পরীক্ষা গ্রহণে কোনো অনিয়ম হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।


