নতুনদের জন্য সুযোগ তৈরি, অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত এবং বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিএ) ও বিধিমালা (পিপিআর) সংশোধনের পরিকল্পনা করছে সরকার।
মঙ্গলবার পরিকল্পনা কমিশন ক্যাম্পাসে বিপিপিএ আয়োজিত এক কর্মশালায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি এই তথ্য জানান।
ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) ব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যবেক্ষণ জোরদার ও বিপিপিএর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) এস. এম. মইন উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করে দোহাটেক নিউ মিডিয়া।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিপিপিএর সক্ষমতা মূল্যায়ন এবং সরকারি ক্রয়ে নতুনদের সুযোগ দিয়ে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার উপায় খুঁজতেই এই আলোচনা।’
তিনি বলেন, ‘এই লক্ষ্য অর্জনে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালা সংশোধন করা প্রয়োজন।’
সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি একটি প্রতিযোগিতামূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরির জন্য সব বাধা অপসারণের তাগিদ দেন।
কর্মশালায় ক্রয়কারী সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি খাত, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যমের ৩০ জনের বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিপিপিএর পরিচালক শাহ ইয়ামিন উল ইসলাম সরকারি ক্রয়ের আইনি কাঠামো, ই-জিপি ব্যবস্থার অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যতের করণীয় নিয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে দেশের সরকারি ক্রয় সংস্কারের যাত্রা, বিপিপিএর কাঠামো, ই-জিপির অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগগুলো তুলে ধরা হয়।
বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মইন উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বর্তমান ই-জিপি প্ল্যাটফর্মকে প্রযুক্তিচালিত, নাগরিকবান্ধব ও সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।’
তিনি জানান, মাঠপর্যায়ের ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা জানতে বিভাগীয় পর্যায়েও আলোচনার আয়োজন করা হবে। প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতেই আইন ও বিধিমালা সংশোধন করা হবে।
অংশগ্রহণকারীরা বিপিপিএর প্রস্তাবিত ১১০ সদস্যের জনবল কাঠামো অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে বলেন, তদারকি, কমপ্লায়েন্স পর্যবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও নীতি উন্নয়নের মতো ক্রমবর্ধমান দায়িত্ব পালনে এই জনবল যথেষ্ট নয়।
কাজের দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে ই-জিপি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে অন্যান্য সরকারি ব্যবস্থার সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও তারা জোর দেন।
আইএমইডি সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের প্রধান দুটি কারণ হলো জমি অধিগ্রহণ ও ক্রয় প্রক্রিয়া।’
তিনি উল্লেখ করেন, উন্নয়ন প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। তাই বিপিপিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ই-জিপির আধুনিকীকরণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
মন্ত্রণালয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে আইএমইডি সচিব বলেন, ‘কার্যকর তদারকির জন্য কর্মকর্তাদের ক্রয় আইন, বিধি ও পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।’


