সমঝোতা ছাড়াই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিতীয় দফার শুল্ক আলোচনা শেষ হয়েছে। তবে উভয় দেশ আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে কূটনৈতিক সংলাপ চালু রাখার দিকে জোর দেওয়া হয়েছে।
শনিবার ভোরে ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ওয়াশিংটনে নির্ধারিত তিন দিনের এই বৈঠকে বাংলাদেশি রপ্তানির ওপর প্রস্তাবিত ৩৫ শতাংশ শুল্ক বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হলেও উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে ভার্চুয়াল বা সরাসরি আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ‘পারস্পরিক বোঝাপড়ায়’ পৌঁছেছে।
এই শুল্ক ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এটি কার্যকর হলে ব্যাপক অর্ডার বাতিল, কারখানা বন্ধ এবং কর্মসংস্থান হ্রাসের মতো অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত, যা দেশের ৪৮ বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক রপ্তানির ৮৫ শতাংশের বেশি জোগান দেয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আলোচনা আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে চলবে এবং শিগগিরই পরবর্তী বৈঠকের দিন নির্ধারণ করা হবে।’
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশীর উদ্দিন। তার সঙ্গে ছিলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং অতিরিক্ত সচিব ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী। ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ও প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি-বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফাইজ আহমেদ তাইয়েব।
বৃহস্পতিবার শেখ বশীর ব্যক্তিগতভাবে বৈঠক করেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি অ্যাম্বাসাডর জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে। প্রেস উইং জানায়, ‘আলোচনাটি আন্তরিক ও গঠনমূলক পরিবেশে’ অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে শুল্ক কাঠামো, কৌশলগত বাজারপ্রবেশ ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।
শেখ বশীর যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যায্য শুল্ক কাঠামো নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি, গম, তুলা ও বোয়িং উড়োজাহাজ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সদিচ্ছার ইঙ্গিত। একইসঙ্গে তিনি ভিয়েতনামের মতো শুল্ক ছাড়ের আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভিয়েতনাম ঘোষিত ২০ শতাংশ কর ছাড় পেয়েছে।
তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএসহ শিল্পমালিক সংগঠনগুলো আশঙ্কা জানিয়েছে, প্রস্তাবিত শুল্কে রপ্তানি খাত বছরে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।


