রান্নার পর গরুর মাংসের সবুজ রং ধারণ নিয়ে খুলনায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এটি রোগাক্রান্ত গরুর কারণে হয়েছে নাকি কোনা রাসায়নিকের কারণে হয়েছে, মাংস খাওয়া নিরাপদ কি না, ইত্যাদি নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।
খুলনা জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের প্রধান সঞ্জয় বিশ্বাস টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেছেন, ওষুধ বা এন্টিবায়োটিকের ফলে রান্না করার পর মাংসের রঙ পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।
গতকাল বুধবার দুপুরে পৌরসভার মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা পিকনিকের জন্য কেনা গরুর মাংস রান্না করতে গিয়ে এ ঘটনা দেখতে পান। পরে তারা রান্না করা মাংসসহ কড়াই নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ও থানায় যান।
মডার্ন বেকারির ২৫ জন কর্মচারী সেদিন পিকনিকের আয়োজন করেন। এজন্য তারা সকালে পাইকগাছা বাজারের মাংস ব্যবসায়ী ইসমাইলের দোকানে মাংস কিনতে যান। বিক্রেতা জানান, সেদিন জবাই করা গরুর সব মাংস ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। তবে ফ্রিজে মাংস সংরক্ষিত রয়েছে।
পরে সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বেকারির কর্মচারী টিটন হোসেন দোকান থেকে চার কেজি মাংস নিয়ে যান। রান্নার প্রায় অর্ধেক শেষ হওয়ার পর কর্মচারীরা দেখতে পান, মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং পরিবর্তন হয়ে সবুজ রং হয়ে গেছে। তারা মাংসসহ কড়াইটি নিয়ে প্রথমে বিক্রেতা ইসমাইলের দোকানে যান। পরে বিষয়টি ইউএনওকে জানিয়ে কড়াইসহ থানায় হাজির হন।
স্থানীয়দের কেউ কেউ মাংসে কোনো ধরনের রাসায়নিক বা অন্য কোনো উপাদান ব্যবহারের আশঙ্কা করছেন।
এসিআইয়ের ভেটেরিনারি কনসালটেন্ট মো. হাবিবুর রহমান টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘কিছু কারণে মাংসের রং পাল্টে যেতে পারে। একটি ব্যাখ্যা হলো পিত্তরসের ফলে যদি কোনো রোগ হয় বা বাইল স্টেইনিং হয়, তাহলে মাংসটি পচে যায়।’
তবে পচে গেলে সেটি রান্নার আগেই অন্য রঙ ধারণ করবে, বা ফ্যাকাশে হয়ে যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে কী কারণে এমনটি হয়েছে তার জন্য মাংস পরীক্ষা করতে হবে।
খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমান জানান, তিনি ফিল্ড ইন্সপেক্টরদের থেকে খবর নিয়েছেন যে কসাই নিজ হাতে গরুটি জবাই করেছেন এবং অনেকের কাছে সেই মাংস বিক্রি করেছেন। একটি বিয়ে বাড়িতেও একই গরুর মাংস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আর কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।
প্রকৃত কারণ জানার জন্য ল্যাব টেস্ট করতে মাংসের নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, কেমিক্যাল টেস্টের ল্যাব খুলনা প্রাণিসম্পদের অধীনে নেই, ঢাকায় আছে, খুলনায় পুলিশের অধীনেও আছে। সেখানে পরীক্ষা করলে জানা যাবে।
সিআইডির ল্যাবে পরীক্ষা করতে পাইকগাছার ওসিকে মাংসের নমুনা নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করার কথাও জানান তিনি।
মাংস বিক্রেতা ইসমাইল বলেন, ‘আমি ভালো মাংসই বিক্রি করেছি। মাংসে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। আমার দোকান থেকে আরও অনেকেই মাংস কিনে নিয়ে গেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ এমন অভিযোগ করেননি।’


