সন্দ্বীপ চ্যানেলে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যবহৃত দুটি সাবমেরিন ক্যাবল এখনো উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও ক্যাবল দুটির মেরামত বা স্থায়ী সুরক্ষায় দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সাগরের জোয়ার-ভাটার তীব্র স্রোত ও ভাঙনের কারণে বাউরিয়া উপকূলসংলগ্ন এলাকায় সাগরের তলদেশ থেকে ৩৩ কেভি ক্ষমতার ক্যাবলের একটি অংশ ভেসে ওঠে। বর্তমানে প্রায় ৪০ ফুট অংশ দৃশ্যমান অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যাবলের ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণের ঘটনাও ঘটে। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়। তবে এখনো মূল ঝুঁকি নিরসনে কার্যকর কোনো কারিগরি পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
সন্দ্বীপ পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মেরামত বা স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি। আপাতত নিরাপত্তা নিশ্চিতে নজরদারি চলছে।’
তিনি জানান, ক্যাবল এলাকা ঘিরে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় পাহারার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন বলেন, ‘পিডিবির অনুরোধে পুলিশি টহল অব্যাহত রাখা হয়েছে। যাতে কেউ ক্যাবলের কাছে যেতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু পাহারা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। প্রতিদিন জোয়ার-ভাটার স্রোতে ক্যাবল আরও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। দ্রুত কারিগরি সংস্কার বা পুনঃসংস্থাপনের ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।’
২০১৮ সালে সীতাকুণ্ড থেকে সন্দ্বীপ পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করা হয়। দুটি লাইনের মাধ্যমে মোট ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়। বর্তমানে সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অনেকাংশেই এই ক্যাবলের ওপর নির্ভরশীল।


