সুদানে আবেইতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের আক্রমণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আরও আটজন আহত হয়েছেন।
শনিবার রাতে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। প্রাথমিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
সেখানে যুদ্ধ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
এদিকে ফেসবুক পেজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানিয়েছে,, ওই এলাকায় পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল রয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে।
আহত শান্তিরক্ষীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও উদ্ধার কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত পেলে যথাসময়ে জানানো হবে।
২০১৮ সালে পাঁচ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান হলেও দক্ষিণ সুদানের বিস্তীর্ণ এলাকায় সহিংসতা এখনো থামেনি।
ওই গৃহযুদ্ধে আনুমানিক ৪ লাখ মানুষ মারা যায়। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রাজনৈতিক অভিজাতদের দুর্নীতি দেশটিতে চলমান মানবিক সংকটের প্রধান কারণ। এর ফলে দক্ষিণ সুদানের অধিকাংশ মানুষ ভয়াবহ খাদ্যসংকটে ভুগছে।
অন্যদিকে, সুদানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘর্ষে আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২ বছর ৬ মাস ধরে চলা যুদ্ধে গত অক্টোবরের শেষ দিকে তারা দারফুর অঞ্চলের আল ফাশির শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়, যা তাদের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চলতি মাসে তারা পূর্বদিকে কর্দোফান অঞ্চলে অগ্রসর হয়ে দেশের সবচেয়ে বড় তেলক্ষেত্রও দখলে নেয়।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, মধ্য ও দক্ষিণ সুদানের তিনটি রাজ্য নিয়ে গঠিত কর্দোফান অঞ্চলে সাম্প্রতিক সহিংসতায় আনুমানিক ৪০ হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। এদের বেশিরভাগ দেশের অভ্যন্তরে আশ্রয় নিয়েছে।
তবে সহিংসতা যদি এল ওবেইদের মতো বড় শহরে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদান
এই সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেই জাতিসংঘ বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
গত ২৭ নভেম্বর জাতিসংঘ এক বিবৃতিতে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের নিবেদিত সেবার জন্য বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
সংঘাতকবলিত অঞ্চলে বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ায় বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে তৃতীয় বৃহত্তম অবদানকারী দেশ। সাতটি মিশনে পাঁচ হাজার ৬০০-এর বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী মোতায়েন রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪৩৫ জন নারী।
বাংলাদেশের সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত কন্টিনজেন্টগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, মিশন সংকোচনের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের মধ্যভাগের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৪০০ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে দেশে ফিরিয়ে আনা হতে পারে।
এই হামলার আগে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে মোট ১৬৮ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন।


