গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য যাত্রা করা নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ ইসরায়েলি নজরদারির সবচেয়ে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ অবস্থানে রয়েছে।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ইতোমধ্যে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ ফিলিস্তিনের সমুদ্রসীমার ২৭৮ কিলোমিটারের (১৫০ নটিক্যাল মাইল) মধ্যে প্রবেশ করেছে। এর পরপরই বহরটির নেতৃত্ব দেওয়া জাহাজ ‘আলমা’ ইসরায়েলি বাধার সম্মুখীন হয়।
প্রায় ছয় মিনিট নৌযানটিকে ঘিরে রাখে ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় ‘ইলেকট্রনিক জ্যামার’ ব্যবহার করে জাহাজটির সঙ্গে বহির্বিশ্বের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় তারা। দ্বিতীয় জাহাজ ‘সিরিয়াস’ একই পরিস্থিতির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
আলমার আরোহী এবং ব্রাজিলিয়ান স্বেচ্ছাসেবী থিয়াগো আভিলা সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জানান, ইসরায়েলি নৌযান তাদের জাহাজকে ভয় দেখাচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং বিপজ্জনকভাবে চারপাশে ঘূর্ণি তৈরি করছে।
তিনি শংকা জানান, সম্ভবত ইসরায়েলি বাহিনী ঘূর্ণি সৃষ্টি করে কোনো ধরনের অস্ত্র ব্যবহার না করেই জাহাজটি ডুবিয়ে দিতে চাইছে। আভিলা বলেন, ‘তবুও আমরা থেমে নেই, আমরা গাজা অভিমুখে এগিয়ে চলেছি।’

গাজার কাছাকছি পৌঁছানো ফ্লোটিলার অন্য জাহাজগুলোর পক্ষ থেকেও একই ধরনের ঝুঁকির শংকা জানানো হয়েছে। তারা বলছেন, অজ্ঞাত কিছু নৌযান বেশকিছু সময় তাদের ঘিরে ছিল, কিন্তু পরে তারা সরে যায়।
গ্লোবাল সুমুদের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, ফ্লোটিলাটি বর্তমানে ৪৪টি জাহাজ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এতে স্বেচ্ছাসেবী ৪৯৭ জন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন জনপ্রিয় অ্যাক্টিভিস্ট গ্রেটা থুনবার্গ, নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি এনকোসি যওয়েলিভেলি ম্যান্ডেলা, ইতালির সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন দেশের ফিলিস্তিনপন্থী সাধারণ জনগণ। বাংলাদেশ থেকেও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম ফ্লোটিলায় যোগ দিয়েছেন।
আল জাজিরার তথ্যমতে, গ্লোবাল সুমুদকে নিরাপত্তা দিতে ইতোমধ্যে সামরিক জাহাজ পাঠিয়েছে ইতালি এবং স্পেন। তুরস্ক ড্রোন সহায়তা দিচ্ছে। তবে গাজার কাছাকাছি ‘ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে’ (ক্রিকিটিক্যাল জোন) প্রবেশ করার পর এই নিরাপত্তা জাহাজগুলো সরে আসবে বলে জানিয়েছে ইতালির নৌবাহিনী।

ফ্লোটিলার প্রধান লক্ষ্য গাজার অনাহারী জনগণের জন্য খাদ্য ও জরুরি ওষুধ সরবরাহ করা। সেই সঙ্গে ‘শান্তি বার্তা’ প্রচার করা এবং ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে একটি মানবিক করিডোর খুলতে বিশ্বনেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
এদিকে ইসরায়েলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, নেতানিয়াহু সরকারের নৌবাহিনী ফ্লোটিলাকে নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা করেছে। তবে আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা জাহাজে ইসরায়েলের কোনো আইনি অধিকার নেই। তারা কিছু জাহাজ আটক বা ডুবানোর চেষ্টা করলেও পুরো নৌবহর (ফ্লোটিলা) নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।


