কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত স্কুলছাত্র সাইফ হোসেনের (১৪) মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তিন বন্ধুর মৃত্যু হলো। সোমবার সকালে জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হলে পাশাপাশি কবরে শায়িত হয় তিন বন্ধু।
গত শনিবার সকালে একই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে নিহত হয় সাইফের দুই সহপাঠী রহমত উল্লাহ (১৪) ও সাহাবী হোসেন (১৪)। গুরুতর আহত সাইফকে ঢাকায় নেওয়ার পর রোববার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলো দৌলতপুর উপজেলার দৌলতখালী চৌহদ্দিপাড়া গ্রামের হেকমত উল্লাহর ছেলে রহমত উল্লাহ, আমিনুল ইসলামের ছেলে সাহাবী হোসেন এবং জিয়ার আলীর ছেলে সাইফ হোসেন। তারা সবাই দৌলতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টার দিকে তিন বন্ধু প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে দৌলতখালী মাদ্রাসা মোড়ে যায়। পড়া শেষে সকাল ৯টার দিকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে দৌলতখালী হাজীপাড়া এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রহমত ও সাহাবীকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সাইফকে প্রথমে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাতে তার মৃত্যু হয়।
শনিবার বিকালে রহমত ও সাহাবীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার সকাল ১১টার দিকে সাইফের জানাজা শেষে দৌলতখালী চৌহদ্দিপাড়া মাঠ এলাকার কবরস্থানে তিন বন্ধুকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘বাড়ির পাশেই ওই তিন শিক্ষার্থীর বাড়ি। তারা সবাই একই শ্রেণিতে পড়ত। এমন ঘটনার সাক্ষী আমাদের গ্রাম আগে কখনো হয়নি।’
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় আহত তৃতীয় ছাত্র সাইফও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। নিহত তিন কিশোরকে তাদের নিজ এলাকার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।’
সোমবার সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিহত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।


