শুরু থেকেই একটা চাপা গুঞ্জন ছিল, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেললে আইসিসির তরফ থেকে আর্থিক জরিমানা কিংবা নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বাংলাদেশের ওপর। তবে সোমবার প্রায় মধ্যরাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানিয়েছে, কোনো ধরনের জরিমানা বা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হচ্ছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি)।
মূলত রোববার লাহোরে আইসিসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিসিবি ও পিসিবির এক জরুরি বৈঠকের পরই এসেছে এই সিদ্ধান্ত। এর সাথে ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে যেকোনো একটি আইসিসি ইভেন্টের আয়োজক হওয়ারও সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ।
আইসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়ে, ‘বিশ্বকাপে না খেলায় বিসিবির ওপর কোনো ধরনের আর্থিক, ক্রিকেটীয় কিংবা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা হবে না। বাংলাদেশ চাইলে আইসিসির বিধান অনুযায়ী ডিসপিউট রেজল্যুশন কমিটিতে এই বিষয়ে আলোচনা করতে পারে। কারণ স্বচ্ছ্বতা, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাই আইসিসির লক্ষ্য।’
লাহোরে বৈঠকটি আয়োজিত হয় ভারতের বিপক্ষে গেল ১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয়ার পর। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা দুই দলের চিরাচরিত লড়াইয়ের। কিন্তু পিসিবি এই ম্যাচ খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে, বাংলাদেশকে অনৈতিকভাবে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেয়ার দাবিতে। অবশ্য এই ম্যাচ খেলতে আইসিসিকে বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছিল পিসিবি। যার মধ্যে একটি আগামী ২০৩১ সালের মধ্যে যেকোনো একটি আইসিসি ইভেন্টে স্বাগতিক হওয়া।
আইসিসি সেই ব্যাপারেও সম্মত হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব পাবে বাংলাদেশ, তবে আইসিসির হোস্টিং প্রসেস, টুর্নামেন্ট টাইমলাইন ও অপারেশনাল বিষয়াদির শর্ত পূরণ সাপেক্ষে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল বাংলাদেশ।
বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সংযোগ গুপ্তার ভাষ্য জানিয়ে লেখা হয়, ‘বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না থাকা দুঃখজনক। তবে এতে ক্রিকেট প্রধান জাতি হিসেবে বিসিবির অবস্থানকে পরিবর্তন হচ্ছে না। বিসিবি সহ বাকি বোর্ডগুলোর সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে দেশটির ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য আমরা টেকসই উন্নতির জন্য কাজ করে যেতে চাই।’


