যৌথবাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি আসকের

যৌথবাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি আসকের
আইন ও সালিশ কেন্দ্র
Advertisement
Advertisement

মাদারীপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক যুবক রাসেল কাজীর মৃত্যুর অভিযোগ এবং ঢাকার পল্লবী এলাকায় ইমতিয়াজ হোসেন রকিকে মিরপুর দারুস সালাম সেনা ক্যাম্পে অবৈধ অস্ত্রের পাশে দাঁড় করিয়ে ছবি তোলা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করার ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

সোমবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রোববার মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক যুবক রাসেল কাজীর (২৯) মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার সকালে যৌথ বাহিনী তাকে আটক করে এবং অভিযানের সময় তাকে নির্যাতনের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সোমবার ঢাকার পল্লবী এলাকায় আরও একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। ইমতিয়াজ হোসেন রকি, যিনি ২০১৪ সালে পল্লবী থানার পুলিশ হেফাজতে নিহত ইশতিয়াক হোসেন জনির ভাই এবং জনির হত্যা মামলার বাদী, তিনি ও তার পরিবার অভিযোগ করেছেন, রাত ৩টা ১০ মিনিটে সেনা সদস্যরা তার বাসায় প্রবেশ করে, কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাকে আটক করে, ঘর তল্লাশি চালায় এবং পরবর্তীতে তাকে সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর দারুস সালাম সেনা ক্যাম্পে রকিকে একটি অবৈধ অস্ত্রের পাশে দাঁড় করিয়ে ছবি তোলা হয় এবং তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ বা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তার পরিণতি খারাপ হবে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, রকিকে একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়, যা তাকে পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি বা পড়ে শোনানো হয়নি। একজন নাগরিক, যার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই এবং যিনি নিজেই একটি হেফাজতে মৃত্যুর মামলার ভুক্তভোগী, তাকে এভাবে হয়রানি করা, মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা এবং মানসিক চাপ প্রয়োগ করা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

উল্লেখ্য, জনি হত্যা মামলা দেশের ইতিহাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির নজির স্থাপনকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা এবং বর্তমানে যা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।

আসক মনে করে, উল্লিখিত ঘটনা দুটি বাংলাদেশের সংবিধানে নিশ্চিত মৌলিক অধিকার, হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩, দণ্ডবিধি এবং জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশন এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আসক এই ঘটনা দুটি প্রেক্ষিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad