প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ বলেছেন, সংস্কারের সবচেয়ে বড় ম্যান্ডেট এসেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে। এ পর্যায়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার মাধ্যমে সেই ম্যান্ডেটকে পূর্ণতা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ আমাদের শিক্ষা দিয়েছে যত প্রতিকূলতাই থাক, যদি ন্যায়ের পক্ষে থাকি, বিজয় আমাদের অনিবার্য।’
বুধবার রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এসব কথা বলেন।
আলী রীয়াজ বলেন, ‘একাত্তরের ধারাবাহিকতায় ২০২৪-এ আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদের মোকাবিলা করেছি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়েই গণভোটকে সফল করতে হবে।’
গণভোটের প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে আয়োজিত ইমাম সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ পুলিশ রংপুর রেঞ্জ-এর ডিআইজি আমিনুল ইসলাম ও রংপুরের পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রংপুর কারমাইকেল কলেজ জামে মসজিদের খতিব মোহাম্মদ আলী সরকার। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত ইমামরা এতে অংশ নেন।
সম্মেলনে আসন্ন গণভোটে সরকারের তরফে প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক আলী রীয়াজ বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। না হলে দেশে গণঅভ্যুত্থান হতো না। সনদের প্রতিটি অক্ষর শহিদের রক্তে লেখা উল্লেখ করে অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, যাদের রক্তে এই সনদ লেখা হলো তাদেরাই দেশকে পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব আমাদেরকে দিয়েছেন।
বিশেষ অতিথি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার বলেন, গণভোট কারও একার এজেন্ডা নয়, দেশের সব রাজনৈতিক দল, আইনজ্ঞ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ সবাই মিলে জুলাই সনদ তৈরি করেছে। জুলাই সনদে গণভোটের বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণভোটে যারা ‘না’ এর পক্ষে কথা বলে তা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদের পক্ষেই কথা বলে।
মনির হায়দার বলেন, গত ৫৪ বছরেও আমরা দেশে ইনসাফ কায়েম করতে পারিনি। স্বাধীনতার যে লক্ষ্য ছিল তা অর্জন করতে পারিনি।
তিনি বলেন, এবারও যদি আমরা স্বাধীনতার লক্ষ্য একটি ন্যায়, সাম্য ও ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে না পারি, তাহলে আমাদের স্বাধীনতা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।
ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন বলেন, আমাদের আলেম সমাজ সব থেকে বেশি বঞ্চনার শিকার। একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা হলে আলেমগণ তাদের অধিকার ফিরে পাবে উল্লেখ তিনি বলেন মানুষের হক প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গণভোট একটি বিরাট সুযোগ।
সভার সভাপতি কারমাইকেল কলেজ জামে মসজিদের খতিব বলেন, ‘গণভোটের কোনো দফাই ধর্ম, আইন ও নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। আলেম সমাজ গণভোটের সকল দফার সঙ্গে একমত উল্লেখ করে গণভোটের সফল বাস্তবায়নে সমাজের আলেমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করে যাবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, জাতীয় ইমাম সমিতি রংপুরের সভাপতি নাজমুল ইসলাম সিদ্দিকী রংপুর কারামতিয়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা বায়েজীদ হোসাইন, মুলাটোল মদিনাতুল উলুম আলীয়া মাদ্রাসার কালেক্টরেট জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আছগর আলী সম্মেলনে বক্তব্য দেন।


