ঈদুল আজহার উৎসবের দিনে চট্টগ্রাম নগরীর বেশ কিছু এলাকায় বসেছে কোরবানির পশুর মাংসের অস্থায়ী ও ভাসমান বাজার। বিভিন্ন বাসা থেকে সংগ্রহ করা এবং কসাইয়ের পারিশ্রমিক হিসেবে পাওয়া পশুর মাংসের একটি বড় অংশ নগদ টাকার আশায় এসব বাজারে বিক্রি করছেন নিম্নআয়ের মানুষ। আর কোরবানির মাংসের এই ভাসমান বাজারের ক্রেতা মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা।
বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর বালুচরা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন আবাসিক এলাকা থেকে সংগ্রহ করা প্রায় পাঁচ কেজি মাংস একটি পাত্রে নিয়ে এসেছেন পঞ্চাশ বছর বয়সী সখিনা বেগম। পুরো মাংসটুকুর দাম চাইলেন ৪ হাজার টাকা। সখিনার মতো অনেক সুবিধাবঞ্চিত মানুষ এবং কোরবানির ঈদে কসাইয়ের কাজ করা মৌসুমী শ্রমিকেরা বালুচরা বাজারে ভিড় করেছেন। নিজের পরিবারের জন্য এক ভাগ রেখে, বাকি মাংসটুকু নগদ টাকার আশায় তারা বিক্রি করে দিচ্ছেন।
বায়েজিদ লিংক রোডে মাংস বিক্রি করতে আসা মো. করিম জানান, তিনি ঈদের সকালে কসাইয়ের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন এবং পারিশ্রমিক হিসেবে কয়েক কেজি মাংস পেয়েছেন। তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘সংসারের অন্য খরচের জন্য টাকার দরকার। তাই বাড়ির জন্য কিছু রেখে বাকি মাংসটুকু বিক্রি করতে চলে এলাম।’
বালুচরা ছাড়াও চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড়, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, বায়েজিদ লিংক রোড এবং রাজেশ খাঁ এলাকায় এমন অনেক অস্থায়ী মাংসের বাজার গড়ে উঠেছে। ফুটপাত কিংবা গলির মুখে বসা এসব বাজারে কোরবানির গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। গরুর মাংসের পাশাপাশি ভুঁড়ি ও কলিজার চাহিদাও ছিল চোখে পড়ার মতো।
এখানে মাংস কিনতে এসেছেন এমন অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ, যারা এবার কোরবানি দিতে পারেননি। বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের চড়া দামের মধ্যে এই ভাসমান বাজারগুলো সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। নিজেরা কোরবানি দিতে না পারলেও, ঈদের দিন কম দামে তাজা মাংস কিনতে পেরে অনেকে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি না থাকলেও এই অস্থায়ী বাজারগুলোর মাধ্যমে ঈদের আনন্দ পৌঁছে যাচ্ছে এমন সব পরিবারে, যারা হয়তো মাংসের চড়া দামের কারণে উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতো।


