জাতীয় সংসদে প্রবীণ সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের বক্তব্যের সময় অন্য সদস্যদের হট্টগোল ও বাধাদানের ঘটনায় কড়া রুলিং দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি সংসদ সদস্যদের কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেছেন, সামান্য কারণে সংসদে উত্তেজনা সৃষ্টি করা মোটেও সমীচীন নয়। কারণ, এ ধরনের আচরণে জাতীয় সংসদের প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা ও সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন।
এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা দফায় দফায় বাধা দিলে সংসদে ব্যাপক হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ফজলুর রহমান অভিযোগ করেন, তাকে ‘পাগলা’ বলে কটূক্তি করা হচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে সদস্যদের শান্ত হওয়ার নির্দেশ দেন।
সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইনসভা। এখানে প্রত্যেকেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। তিনি সবাইকে রুলস অব প্রসিডিউর বা কার্যপ্রণালি বিধি পড়ে দেখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, সংসদ যদি বিধি মোতাবেক পরিচালিত না হয়, তবে এটি আর জাতীয় সংসদ থাকবে না। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি সংসদীয় শিষ্টাচার বজায় রাখার আহ্বান জানান।
সদস্যদের বাকস্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরে স্পিকার আরও বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যের মতাদর্শ এক হবে—এমনটা ভাবা ঠিক নয়।
সরকারি দলের কোনো সদস্যের বক্তব্যে আপত্তি থাকলে পরবর্তীতে যুক্তি দিয়ে তা খণ্ডন করার পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কারো বক্তব্যের মাঝপথে ডিস্টার্ব করা বা হট্টগোল করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পিকার বলেন, বয়স্ক ও অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যরা শিশুদের মতো আচরণ করছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি মন্তব্য করেন যে, অনেক সদস্যই প্রবীণ এবং দাদা হয়ে গেছেন; গ্যালারিতে বসে হয়তো তাদের নাতি-নাতনিরাও এই অধিবেশন দেখছে। তাদের এমন আচরণে পরবর্তী প্রজন্ম কী শিখবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
রুলিং দেওয়ার সময় স্পিকার মনে করিয়ে দেন , স্পিকার যখন কথা বলার জন্য দাঁড়াবেন, তখন অন্য সবার বসে পড়া ও চুপ থাকা আবশ্যিক কর্তব্য। পরবর্তীতে স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ফজলুর রহমান তার নির্ধারিত বক্তব্য শেষ করেন।


