জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট ও তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
রোববার ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন চলাকালে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি সরকারের বর্তমান অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন। রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, সরকার জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের সঙ্গে ‘মিথ্যাচার’ করছে।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বারবার জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করা হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য প্রতিদিন দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
চালকরা মাঝরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সত্যিই কোনো সংকট না থাকে, তবে কেন এই হাহাকার এবং কেনই বা তেলের দাম বাড়ানো হলো?
জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, রাত ৮টার পরিবর্তে ৭টায় মার্কেট বন্ধ করার সিদ্ধান্তটি অদূরদর্শী। কারণ, সাধারণ মানুষ সাধারণত সন্ধ্যার পরেই কেনাকাটা করে। এ ছাড়া অফিস-আদালতের কর্মঘণ্টা পরিবর্তন নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুমিন ফারহানা সরাসরি জানতে চান, বর্তমানে দেশে অকটেন ও ডিজেলের প্রকৃত মজুদ কতদিনের আছে? পাম্পগুলোতে কেন পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই এবং এই মজুদদারির পেছনে কারা জড়িত, তা পরিষ্কার করার দাবি জানান তিনি।
তার এই বক্তব্যের এক পর্যায়ে সরকারি দলের সদস্যদের পক্ষ থেকে হট্টগোল শুরু হয় এবং রুমিন ফারহানার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। মাইক বন্ধ থাকা সত্ত্বেও তিনি তার বক্তব্য চালিয়ে যান।
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে একজন সংসদ সদস্যের মাইক বন্ধ করে দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, স্বতন্ত্র সদস্যের বক্তব্যের সময় সরকারি দলের অনেক সদস্য আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করেছেন, যা সংসদীয় রীতির পরিপন্থী। বিরোধীদলীয় নেতা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।


