যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমকে ঘুষের টাকা নেওয়ার সময় আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার বিকালে দুদক যশোরের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন ও সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে একটি টিম শিক্ষা অফিসে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। এ সময় ঘুষের এক লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
এর আগে শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে দুদকের কাছে অভিযোগ করেন যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুন্নবী। তিনি জানান, তার স্ত্রী শিরিনা আক্তার ঝিকরগাছার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। গত বছরের ২ অক্টোবর তার স্ত্রী মারা যান। এরপর স্ত্রীর পেনশন সংক্রান্ত টাকা উত্তোলনের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে দীর্ঘদিন ঘোরানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে আশরাফুল আলমকে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়া হয়। পরে আরও টাকা দাবি করা হলে নুরুন্নবী অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে ঘুষ না দিলে পেনশনের টাকা দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন আশরাফুল আলম। এমনকি খুলনা বিভাগের এক কর্মকর্তার যোগসাজশে তার স্ত্রীর বেতন স্কেল কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নুরুন্নবী।
তিনি জানান, বুধবার বিকালে ফাইল ছাড় করানোর কথা বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের হাতে এক লাখ ২০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দুদকের একটি টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে ঘুষের টাকাসহ আশরাফুল আলমকে আটক করে।
দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন জানান, আটক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে।


