বাংলাদেশের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার পরিচালনার জন্য প্রণীত আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। আবেদনকারী দাবি করেছেন, আইনের কয়েকটি বিধান সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি দাখিল করেন। এতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কয়েকটি নির্দিষ্ট বিধানের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আবেদনকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, আইনটির কিছু ধারা বাংলাদেশের সংবিধানে সুরক্ষিত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
মহসিন রশিদ বলেন, আইনটি তার মূল উদ্দেশ্য পূরণ করেছে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিচারিকভাবে হত্যার অস্ত্র হিসেবে এর সম্ভাব্য অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগ রোধ করা প্রয়োজন। ফলে সংশ্লিষ্ট বিধানগুলোকে কেন অসাংবিধানিক, আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং বাতিল ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে আদালতের কাছে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
আবেদনকারী আরও যুক্তি দিয়েছেন, বিদ্যমান আইনের কিছু বিধান সংবিধানের নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে সেসব বিধানের বিচারিক পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে তিনি আদালতের কাছে দাবি করেছেন।
রিট আবেদনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম টাইমসকে বলেন, ২০১০ সাল থেকে এই আইনের অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বহু মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতেও আইনটি চ্যালেঞ্জ করে একাধিক রিট আবেদন করা হয়েছিল, তবে সেগুলো আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি। এই রিটের ক্ষেত্রে নতুন কোনো আইনি ভিত্তি উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, রিটের কপি না দেখে তা বলা সম্ভব নয়, বলেন তিনি।
বর্তমান আবেদনের পটভূমিতে সামনে এসেছে ট্রাইব্যুনাল আইন নিয়ে পূর্ববর্তী বিতর্কও। ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সংশোধিত আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন চ্যালেঞ্জ করার কোনো সুযোগ নেই, কারণ আইনটি সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত।
তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য ছিল, ১৯৭৩ সালের ট্রাইব্যুনাল আইনকে সংবিধানে একটি ব্ল্যাংকেট প্রটেকশন দেওয়া হয়েছে। তার মতে, এই আইনের বৈধতা নিয়ে কোনো সাংবিধানিক আদালতে প্রশ্ন তোলা যায় না এবং এই আইনের অধীনে বিচারাধীন কোনো ব্যক্তি মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হাইকোর্ট বিভাগ বা অন্য কোনো সাংবিধানিক আদালতে আবেদন করতে পারেন না।
নতুন রিটের আবেদনকারী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ এর আগেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-সংশ্লিষ্ট মামলায় অংশ নিয়েছিলেন। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলাকালে আওয়ামী লীগ নেতা মতিয়া চৌধুরীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হলে তার পক্ষে শুনানি করেন মহসিন রশিদ।


