নির্বাচনের দিন গণভোটের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার একটি দলের কাছে নতি স্বীকার করেছে বলে মনে করেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, ‘সরকার দলটির ফাঁদে পা দিয়ে সংস্কারকে গুরুত্বহীন করতেই একদিনে দুই ভোটের ব্যবস্থা করেছে।’
শুক্রবার সকালে ঢাকার মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে আন্দোলনরত আট দলের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের এই নেতা মূলত বিএনপির দিকেই ইঙ্গিত করলেন। কারণ, বিএনপি শুরু থেকেই জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একদিনে করার কথা বলে আসছে। শুধু তাই নয়, বুধবার ঢাকার এক আয়োজনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক বলেছেন, ‘এই সময়ে গণভোটের চেয়ে আলুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া এবং পেঁয়াজের সংরক্ষণাগার স্থাপন কৃষকদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘আলু চাষ করে আলুচাষিরা এবার প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন। অপরদিকে আমরা দেখি দু-একটি রাজনৈতিক দলের আবদার মেটাতে গিয়ে কথিত গণভোট যদি করতে হয়, রাষ্ট্রকে প্রায় সমপরিমাণ টাকা গচ্চা দিতে হবে।’
বিএনপির এ অবস্থানের কাছেই সরকার নতি স্বীকার করেছে বলে মনে করেন জামায়াতসহ আট দলের নেতারা।
কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তাহের বলেন, ‘নির্বাচনের আগে গণভোট হলে একটি দলের চিন্তা চেতনার বিপরীতে যাবে। সে আশঙ্কা থেকে দলটি আগে গণভোট মানতে চায়নি।’
সরকারকে নির্বাচনের আগে গণভোট দেওয়ার আহ্বানও জানিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, ‘সরকারের তিনজন উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টাকে ভুল বুঝিয়ে একটু দলকে ক্ষমতায় বসাতে কাজ করছে। শিগগিরই তাদের ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করা হবে।’
এছাড়া প্রশাসনে সম্প্রতি যে রদবদল হচ্ছে সেখানে বিএনপির সমর্থকদের বসানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আর এর মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পথ রুদ্ধ হচ্ছে বলেও মত দেন।
তাহের আরও বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনে নানা সিদ্ধান্তে ৯০ শতাংশ দল একমত হলেও একটি দলকে গুরুত্ব দিতে প্রধান উপদেষ্টা ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশকে পাশ কাটিয়ে গেছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত জামায়াত ইসলামী ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


