প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তার সরকার সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নোয়াব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এটিই ছিল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে জানান, প্রধানমন্ত্রী সংবাদপত্র মালিকদের কথা অত্যন্ত ধৈর্য ও আগ্রহের সাথে শুনেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে উল্লেখ করেছেন, তিনি নিয়মিত পত্রিকা পড়েন এবং টেলিভিশন দেখেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব দেন এবং সেসব খবরের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। দুপুর ২টা ২০ মিনিট থেকে শুরু হয়ে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত চলা এই বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।
তিনি আশ্বস্ত করেছেন, সংবাদপত্র শিল্পের সমস্যা সমাধানে নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময় পরপর এ ধরনের বৈঠক আয়োজন করা হবে।
সভার শুরুতে নোয়াব সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বক্তব্য দেন। তিনি সংবাদপত্র শিল্পের বিদ্যমান সংকট এবং বিগত সরকারগুলোর আমলে বিপুল পরিমাণ সরকারি বিজ্ঞাপনের বিল বকেয়া থাকার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।
এ ছাড়া নোয়াব সদস্যরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তারা বিগত সরকারের আমলে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তারকৃত সাংবাদিকদের জামিনে মুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
উক্ত সভায় নোয়াবের সহসভাপতি এএসএম শহীদুল্লাহ খান, কোষাধ্যক্ষ আলতামাশ কবির, সদস্য এ কে আজাদ, দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, করতোয়া সম্পাদক মোজাজ্জেল হক, পূর্বকোণ সম্পাদক রমীজউদ্দিন চৌধুরী এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর প্রকাশক নাসিম মনজুরসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


