মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শেভরন বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্রের কনডেনসেট (অপরিশোধিত তেল) পাইপলাইনে অগ্নিকাণ্ডে দুজন দগ্ধ হয়েছেন। আগুনের শিখা দেখে আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যায় এলাকাবাসী।
উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের জৈন্তা ছড়া এলাকায় মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বিকাল থেকেই পাইপলাইনে ছিদ্র হয়ে কনডেনসেট (প্রাকৃতিক গ্যাসের সঙ্গে সংগৃহীত এক ধরনের তরল হাইড্রোকার্বন) তেল ছড়িয়ে পড়ছিল। রাত ৯টার দিকে হঠাৎ তাতে আগুন লেগে শিখা ছড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শত শত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যায়। ফায়ার সার্ভিসের শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার টিম প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
শেভরন বাংলাদেশ জানিয়েছে, বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে দুর্বৃত্তরা চুরির জন্য পাইপলাইনে অবৈধভাবে ট্যাপিং করে। এতে কনডেনসেট তেল ছড়িয়ে পড়লে রাতে আগুনের সূত্রপাত হয়। অগ্নিকাণ্ডে কোম্পানির গ্যাস উৎপাদনে কোনো প্রভাব পড়েনি।
শেভরনের মিডিয়া ও কমিউনিকেশনস ম্যানেজার শেখ জাহিদুর রহমান বলেন, কোম্পানির জরুরি প্রতিক্রিয়া দল স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে কাজ করে। এখানকার জনপদ ও পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মৌমিতা বৈদ্য জানান, রাত সাড়ে নয়টার দিকে দগ্ধ রেদোয়ান (২৪) ও তার বাবা বশির মিয়াকে (৫০) প্রাথমিক চিকিৎসার পর মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রেদোয়ানের অবস্থা বেশি আশঙ্কাজনক।
মৌলভীবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আলাউদ্দিন বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট অংশ নেয়। মেইন লাইন হওয়ায় অতিরিক্ত তেলের চাপে প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পোহাতে হয়।
খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো গেছে। দগ্ধ দুজনের সুচিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। তবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনই বলা যাবে না।’


