নেপালের বিপক্ষে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের আসরের সেমিফাইনালে আগের দিনই বাংলাদেশ শিবিরে আসে দুঃসংবাদ। ডিফেন্ডার শিউলি আজিমের মা বাসনা আজিম কিডনি জটিলতায় মঙ্গলবার ভোরে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। পুরো দলে নেমে আসে শোকের ছায়া। সেই শোক আরও ঘনীভূত হয় ফ্লাইট জটিলতায় শেষবারের মতো নিজের মাকে দেখতে শিউলি দেশে ফিরতে না পারায়। তবে সতীর্থরা সেই শোককে পরিণত করলেন শক্তিকে।
বুধবার গোয়ার মারগাওয়ের জওহরলাল স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে প্রথমে ১-০-তে পিছিয়ে পড়েও ঋতুপর্ণা চাকমার অবিশ্বাস্য এক অলিম্পিক গোলের পর, মোছাম্মত সাগরিকার জয় সূচক গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ নারী দল। এই নিয়ে টানা তিন আসরের ফাইনাল নিশ্চিত করল শেষ দুই আসরের চ্যাম্পিয়নরা।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রথমার্ধে এলোমেলো ছিল বাংলাদেশ। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের অগোছালো ফুটবলের সুযোগ নিয়ে রক্ষণভাগে টানা আক্রমণ চালায় নেপাল। সেই ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ২৩তম মিনিটে দীপা শাহির নেওয়া কর্নার থেকে সিক্স ইয়ার্ড বক্সে থেকে আলতো চিপ শটে লক্ষ্যভেদ করেন গীতা রাণী। ১-০ তে এগিয়ে যায় নেপাল।
যদিও ২৪-তম মিনিটেই সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ, তবে শেষ মুহূর্তের দুর্বল ফিনিশিংয়ে গোল পাওয়া হয়নি। ৩৬তম মিনিটে আবারও বড় ধাক্কা খেতে পারত লাল-সবুজের দল। প্রীতি রাজের দূরপাল্লার জোরালো শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেয় পোস্ট, যদিও সেখানে কিছুটা ভাগ্য সহায় ছিল গোলকিপার মিলি আক্তারেরও, যিনি বলের গতিপথ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখেন।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে আক্রমণের ধার বাড়ায় বাংলাদেশ। টানা আক্রমণে ফল আসে কর্নার থেকে। পুরো প্রথমার্ধে নিষ্প্রভ থাকা ঋতুপর্ণা নিতে যান শট। কর্ণার থেকে বাম পায়ের বাকানো শটে বল খুঁজে নেয় নেপালের জাল। ১-১ সমতায় থেকে শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় নেপাল। ফরোয়ার্ড রেখা গোলকিপার মিলি আক্তারকে কাটিয়ে বল পাঠালেও ভাগ্য সহায় হয়নি, বল গিয়ে লাগে গোলপোস্টে। ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। সাগরিকার নেওয়া শক্তিশালী শট দুর্দান্তভাবে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন নেপালের গোলকিপার সুব্বা, ফলে বেঁচে যায় নেপাল।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে স্কোরলাইন থাকে ১-১ সমতা। যোগ করা ছয় মিনিটের প্রায় মাঝামাঝি সময়ে আসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত। ডান দিক থেকে আক্রমণে উঠে সামসুন্নাহার জুনিয়রের নিখুঁত পাস থেকে বল জালে পাঠান সাগরিকা। শেষ মুহূর্তের এই গোলে ২-১ ব্যবধানে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।


