শেরপুরে সাংবাদিকের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি, আতঙ্কে এলাকাবাসী

শেরপুরে সাংবাদিকের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি, আতঙ্কে এলাকাবাসী
Advertisement
Advertisement

একাত্তর টেলিভিশনের শেরপুর জেলা প্রতিনিধি তারিকুল ইসলামের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরচক্র বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও ইলেকট্রনিকস মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।

রোববার সন্ধ্যায় শেরপুর শহরের জেলখানা রোড়ের নওহাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়ে খবরের কাজে ঝিনাইগাতী উপজেলায় যান তিনি। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে কোনো এক সময় সংঘবদ্ধ চোরচক্র বাড়ির পেছনের টিনের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর বাড়ির দরজা ভেঙে তারা নির্বিঘ্নে লুটতরাজ চালায়। চোরেরা দুই ভরি স্বর্ণালংকার, ছয় ভরি রুপা, নগদ ৪০ হাজার টাকা ও একটি এলইডি টিভিসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। তারা প্রায় ছয় লাখ টাকার মালামাল লুট করে। ধারণা করা হচ্ছে, দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে চুরির ঘটনাটি ঘটেছে।

এর আগেও এই বাড়ি থেকে দুটি স্মার্ট মোবাইল চুরি হয়েছিল। এরপর থানায় জিডি করলেও এখন পর্যন্ত সেগুলো উদ্ধার হয়নি। কিন্তু বারবার একই ধরনের চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় পুলিশের নিয়মিত টহল না থাকায় চোরেরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। পুলিশের টহল না বাড়ালে চুরি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এদিকে, এই চুরির ঘটনার পর পুরো এলাকায় এখন চরম চুরি আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত চোর শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং এলাকায় স্থায়ীভাবে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

নওহাটা এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহে আমাদের এলাকায় যেভাবে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছে, তাতে আমরা খুবই আতঙ্কিত। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না। পুলিশের টহল অনেক কম, প্রায় চোখেই পড়ে না। আমরা চাই দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং নিয়মিত পুলিশি টহল বাড়ানো হোক।

তিনি আরও বলেন, একটি বিষয় খেয়াল করলে দেখা যায়, এ এলাকায় যারা স্থানীয় মানুষ রয়েছে তাদের বাসায় চুরির ঘটনা অনেক কম ঘটছে। কিন্তু ভাড়াটিয়া ও ওই এলাকায় জায়গা কিনে বাড়ি করা মানুষদের বাসায় প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনা ঘটছে। ফলে এ বিষয়টি আমাদের ভাবাচ্ছে।’

একই এলাকার বাসিন্দা রাজু আহম্মেদ বলেন, ‘আমার বাসার পাশে একটি বাসায় চুরি হয়েছে। এ এলাকায় প্রায়ই চুরি হচ্ছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আমরা প্রতিদিন দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকি, কখন আবার আমাদের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। এতো এতো চুরি হচ্ছে কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। এ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, ‘খবর শোনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এরইমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।’ অভিযোগের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া আশ্বাস দিয়েছেন ওসি।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, ভুক্তভোগী অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর