গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদেরকে উন্নত টিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোববার সকাল পৌনে ১১ টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার গেড়াখোলা ব্রিজের পাশে সালিনাবক্সা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের যাত্রীবাহী একটি বাস সালিনাবক্সা এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের গেড়াখোলা এলাকায় ব্রিজের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে বাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেি তিনজন নিহত হন। এ সময় আহত হন আরও অন্তত ৩০ জন। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করেন। তাদের মধ্যে আহত ১৭ জনকে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে খুলনার দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা শেখ আনিচুর রহমান নামে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকি দুজনের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।
মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ভীষ্মদেব মণ্ডল জানান, দুর্ঘটনার পর ১৭ জন আহত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তবে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মোঃ আজাদুর রহমান।
দুর্ঘটনায় আহত পিরোজপুরের জিয়ানগর এলাকার বাসযাত্রী মো. আব্দুল্লাহ বলেন, চালকের অতিরিক্ত গতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়।
মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে শেখ আনিচুরের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দুইজনের পরিচয় জানতে পিবিআইকে কল করা হয়েছে। পরিচয় পেলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ভাঙ্গা ভাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন।


