বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নার্সের পুশ করা ভুল ইনজেকশনে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অভিযুক্ত নার্সদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রোববার সকালে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মহিলা নাক, কান, গলা বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডাব্লুগঞ্জ গ্রামের মান্নানের স্ত্রী সেফালী (৬০) ও বরিশালের কাশিপুর বিমানবন্দর থানা এলাকার মৃত বাবু হাওলাদের স্ত্রী হেলানা (৪৫)। সেফালী হাসপাতালের ৭ নম্বর বেডের ও হেলানা ১০ নম্বর বেডের রোগী ছিলেন।
নিহতের স্বজন ও ভর্তি থাকা রোগীরা জানিয়েছেন, সেফালীর গালে টিউমার জাতীয় চিস্ট ও হেলেনা থাইরয়েডের সমস্যা নিয়ে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। রোববার তাদের অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। সকালে ওই ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স মলিনা রানী হাওলাদার তাদের শরীরে ভুলক্রমে নরকিউ (Nor Q) (10mg) এনেস্থেসিয়া ইনজেকশন প্রয়োগ করে বলে জানায় রোগীর স্বজনরা। এর মাত্র ২ থেকে ৫ মিনিটের মধ্যে দুই রোগীর মৃত্যু হয়। স্বজন ও অন্য রোগীরা জানায় ভর্তি থাকা দুই নারী সেফালী ও হেলেনা সুস্থ স্বাভাবিক ছিলেন। ওই ইনজেকশন হাতে পুশ করার পর পরই তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন স্বজন ও অন্য রোগীরা।
এদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত নাক, কান, গলা বিভাগের সিনিয়র নার্স মলিনা রানী হালদার নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, ‘কীভাবে কী হলো তা আমি বলতে পারছি না, আমার ভুল হয়েছে। একই কথা বলেছেন সিনিয়র নার্স হেলেনাও।‘
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর জানিয়েছেন, দুই রোগীর অপরারেশন হওয়ার কথা ছিল। অপারেশন হওয়ার আগে ও অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে কিছু ওষুধ দিতে হয়। কিন্তু তারা এনেস্থেসিয়া ইনজেকশন আগে পুশ করেছে। তারা নিজেদের কাজে গাফলতি করেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। আর যারা মারা গেছেন তাদের স্বজনদেরও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হবে।
এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে ওই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আমিনুল হককে প্রধান করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন, উপসেবা তত্ত্বাবধায়ক মোসাম্মৎ শাহনাজ পারভীন, নাক,কান গলা বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. আল মামুন খান।


