মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া রায়ের আদেশ এখনো সরকারের কোনো দপ্তরে পৌঁছেনি।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা ও সাবেকস্বরাষ্ট্র আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়। এই রায়ের আদেশ কারাগারে পৌছানোর পর সাবেক আইজিপি’কে দণ্ডিত আসামি হিসাবে রাখবে কারাকর্তৃপক্ষ।
এচাড়া ‘পলাতক’ দুই আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে গ্রেপ্তারের জন্য এই আদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হবে। ‘বিদেশে পলাতক’ হিসাবে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য চেয়ে রায়ের আদেশ ইন্টারপোলের কাছে পাঠাতে পারে পুলিশ সদর দপ্তর।
অন্যদিকে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডিত আসামিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ভারতের কাছে চিঠি পাঠাবে সরকার। এজন্য রায়ের আদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
ট্রাইব্যুনালের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মঙ্গলবার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর এবং কেন্দ্রীয় কারাগারে এই আদেশ পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের অসুস্থতার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি স্থগিত হয়ে গেছে।
ট্রাইব্যুনালের একজন কর্মকর্তা জানান, চেয়ারম্যান সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত রায়ের আদেশের সত্যায়িত কপি প্রস্তুত ও বিতরণ করা সম্ভব হবে না। ফলে কপি পাঠানোর জন্য কোনো নতুন তারিখও ঠিক হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফেরাতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠিয়েছে। তবে, রায়ের সত্যায়িত কপি না পেলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
নিয়ম অনুযায়ী, রায় কার্যকরের জন্য প্রথমে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে যদি আত্মসমর্পণ না করেন, তবে তিনি আপিলের অধিকার হারাবেন।


