চোখে একরাশ অভিব্যক্তি, মুখে মিষ্টি হাসি। অল্প সময়েই দর্শকের মন জয় করেছেন তরুণ অভিনেত্রী আইশা খান। টেলিভিশনে নিয়মিত অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি এখন সিনেমাতেও কাজ করছেন। তার নতুন সিনেমা ‘শেকড়’ প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছে কানাডার টরন্টোতে আন্তর্জাতিক দক্ষিণ এশীয় চলচ্চিত্র উৎসবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগে সিনেমাটি উৎসবে প্রদর্শিত হবে ১৮ অক্টোবর।
‘শেকড়’ বলছে অভিবাসন, বিচ্ছিন্নতা আর পরিচয়ের খোঁজের গল্প। আইশা ছবিটির সঙ্গে যুক্ত হন গত বছর। কয়েকটি অনুষ্ঠানে তার দেখা হয়েছিল অভিনেতা এফ এস নাঈমের সঙ্গে। নাঈমের মাধ্যমেই পরিচয় হয় পরিচালক প্রসূন রহমানের সঙ্গে। কিছুদিন পরই ফোন পান আইশা।
“প্রসূন ভাই বলেন, আন্তর্জাতিক উৎসবের জন্য একটা সিনেমা বানাচ্ছেন, আমি কাজ করব কি না,” স্মৃতিচারণ করেন আইশা।
“ফোনে বলেছিলাম, গল্পটা ভালো লাগলে করব। পরে আমরা তিনজন বসি, প্রসূন ভাই পুরো গল্প ও পরিকল্পনা শেয়ার করেন। বুঝলাম, তারা অনেক কাজ এগিয়ে রেখেছেন—শুধু আমাকে যুক্ত করা বাকি ছিল। সব শুনে মনে হলো, এই টিমটার ওপর ভরসা করা যায়,” বলেন আইশা।
সানাউল মোস্তফার উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘শেকড়’-এর গল্প প্রথমবার শোনার পরই তার ভালো লেগেছিল। “এ ছবিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গল্প আছে, যা আমাদের সিনেমায় খুব কমই এসেছে। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিই, এমন একটি ছবির অংশ হওয়া দরকার। প্রথম সিনেমা থেকেই ইচ্ছে ছিল উৎসবের জন্য বানানো ছবিতে অভিনয় করবো।”
ছবিতে আইশা অভিনয় করেছেন ফাল্গুনির চরিত্রে—একটি সংগীতপ্রেমী পরিবারের মেয়ে। তার সহশিল্পী নাঈম অভিনয় করেছেন প্রতিবেশী আকাশের ভূমিকায়। “সিনেমায় ফাল্গুনি আর আকাশের মধ্যে বন্ধুত্ব আর ভালোবাসার একটা সম্পর্ক আছে,” জানালেন আইশা।
এ ছবিতে কাজ করার পেছনে তাকে সবচেয়ে টেনেছে গল্পটার আবেগ। “বাংলাদেশের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পরিবারের সঙ্গে প্রবাসের একটা যোগ আছে। ‘শেকড়’ এমন এক মানুষকে ঘিরে, যিনি পরিবার, মা, দেশ আর সংস্কৃতি পেছনে ফেলে বিদেশে যান। ফিরে এসে দেখেন—সবকিছু বদলে গেছে; সম্পর্ক, জায়গা, অনুভূতি। এই যে পাওয়া–না পাওয়ার টানাপোড়েন—এটিই আমাকে টেনেছে।”
দর্শকরা আলাদা কী দেখতে পাবেন এই সিনেমায়—জানতে চাইলে আইশা বলেন, “তারা তাদের নিজের পরিবারের প্রতিফলন দেখতে পাবেন। প্রবাসীরা হয়তো নিজেদের খুঁজে পাবেন আকাশের গল্পে, আবার কিছু দর্শক আমার চরিত্র ফাল্গুনি বা দিলারা জামান আন্টির মধ্যে নিজেদের গল্প চিনে নেবেন।”
আইশার কাছে ‘শেকড়’ শুধু একটা সিনেমা নয়, বরং এক আবেগময় যাত্রা—যা দর্শকের অনুভূতির সঙ্গে মিলে যায়। তিনি জানান, ছবিটি আগামী বছরের ঈদে বাংলাদেশে মুক্তি পাওয়ার কথা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে আইশা বলেন, “এই মুহূর্তে আমি টেলিভিশন নাটক নিয়েই ব্যস্ত। যখন পুরোপুরি সিনেমায় যাব, তখন সেটাতেই মন দেব। একসঙ্গে অনেক কিছু করা আমার পক্ষে সম্ভব না।”


