তিন পার্বত্য জেলায় ১২টি বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের তিনটি প্রাথমিক ও নয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পর্যায়ক্রমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিন পার্বত্য জেলায় নির্বাচিত মোট ১৪৯টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং কার্যক্রম চালু করা হবে।
এ সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
যেসব বিদ্যালয়ে মঙ্গলবার থেকে ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে সেগুলো হলো–রাঙামাটির রাণী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়, কাপ্তাই আল-আমিন নূরীয়া দাখিল মাদ্রাসা, ফারুয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ইসলামাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; খাগড়াছড়ির কমলছড়ি পাইলট হাই স্কুল, হাজাছড়ি জুনিয়র হাই স্কুল, মানিকছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পুজগাং মুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; এবং বান্দরবানের বালাঘাটা আইডিয়াল স্কুল, হাজী ফিরোজা বেগম ওয়ামি একাডেমি, তিন্দু জুনিয়র হাই স্কুল ও বগামুখ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সারা বিশ্বে ইন্টারনেট পৌঁছে গেলেও পার্বত্য অঞ্চলে এতদিন তা পৌঁছায়নি, যা সরকারের ব্যর্থতা।
তিনি বলেন, ‘এটা যে এতদিনেও হয়নি, তার দায় সরকারের। আমরা এর জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। আজ মাত্র ১২টি স্কুল নিয়ে শুরু করলাম, অথচ সাড়ে তিন হাজার স্কুলে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। আমাদের খুব দ্রুত সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে।’
তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনন্য হলেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে সেখানে ভালো শিক্ষক যেতে আগ্রহী হন না। ইন্টারনেট চালু হলে শিক্ষার্থীদের আর একজন শিক্ষকের ওপর নির্ভর করতে হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষক পৃথিবীর যেখানেই থাকুন, সেখান থেকেই পড়াতে পারবেন। শিক্ষকের অভাবে তোমাদের শিক্ষার মান কমবে না।’
ই-লার্নিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষা ছাড়াও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়বে বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দুর্গম এলাকায় ভালো চিকিৎসক পাওয়া কঠিন হলেও ইন্টারনেট থাকলে দূর থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। অন্য নাগরিক যে অধিকার পায়, তোমরাও সে অধিকার পাবে। বঞ্চিত থাকার কোনো কারণ নেই। এটা দিতে না পারা সরকারের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতা থেকে বেরিয়ে আসতেই আমরা কাজ করছি।’
পরে কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। তারা ই-লার্নিং কার্যক্রম শুরুর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে। তিনি বলেন, ‘শিক্ষায় পার্বত্য অঞ্চলে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। পর্যায়ক্রমে ১৪৯টি স্কুলে ই-লার্নিং চালু করা হবে। সরকার পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে পিছিয়ে রাখতে চায় না, আর তারাও পিছিয়ে থাকতে চায় না। আমরা চাই পার্বত্য চট্টগ্রাম পুরো বাংলাদেশ ও বিশ্বের সঙ্গে আরও বেশি সংযুক্ত হোক।’


