আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফেরাতে প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূসের হস্তক্ষেপ চেয়েছে জাতীয় শিক্ষক ফোরাম।
সোমবার দুপুরে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানানো হয়। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ ও সাত দফা দাবি আদায়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবিএম জাকারিয়া বলেন, ‘শিক্ষাবর্ষের শেষপর্যায়ে এসে শিক্ষক আন্দোলনে শিক্ষা ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। সামনে নির্বাচন, বার্ষিক পরীক্ষা, এমনকি এ বছর পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তাই সরকারের উচিত দ্রুত দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে পাঠানোর ব্যবস্থা করা। নয়ত শিক্ষক আন্দোলন দীর্ঘ হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়বে।’
আন্দোলনের ফলে শিক্ষার যে ক্ষতি হয়েছে তা দীর্ঘ হলে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন এই শিক্ষক নেতা। আর তাই এই অচলাবস্থা নিরসন করে শিক্ষক-কর্মচারীদের বিদ্যালয়ে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে সরাসরি প্রধান উপদেষ্টা হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেন তিনি।
এসময় জাতীয় শিক্ষক ফোরামের সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো-এমপিভুক্ত শিক্ষকদেরকে নিঃশর্তভাবে ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া দিতে হবে; ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দিতে হবে; এমপিওভুক্ত কর্মচারীদের ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা দিতে হবে; ১ হাজার ৮৯টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসার এমপিও ফাইলে প্রধান উপদেষ্টার স্বাক্ষরযুক্ত গেজেট প্রকাশ ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনুদানবিহীন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলো এমপিওর জন্য গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে; চার শতাংশ কর্তন বন্ধ এবং অবসরকালীন প্রাপ্ত অর্থ অনধিক ৬ মাসের মধ্যে দিতে হবে; শিক্ষকদের হয়রানি ও হামলার বিচার, শিক্ষক সুরক্ষা আইন ও সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন, সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া, শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মশিক্ষা বাধ্যতামূলকরণ এবং সকল পাবলিক, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ চালু করতে হবে; সর্বোপরি শিক্ষায় বৈষম্য নিরসনে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক নাসির উদ্দিন খান, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন, অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান, সেক্রেটারি জেনারেল প্রভাষক ডা. আব্দুস সবুর, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল ইশতিয়াক আল আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম জাহিদ তিতুমীরসহ অন্যরা।


