শাকসু নির্বাচনের দাবিতে অবরুদ্ধ ভিসি-প্রোভিসি-ট্রেজারার

শাকসু নির্বাচনের দাবিতে অবরুদ্ধ ভিসি-প্রোভিসি-ট্রেজারার
শাকসু নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে উপাচার্যসহ শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করেন। সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। নির্বাচন ঠিক সময়ে আয়োজনের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে উপাচার্যসহ শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করেন এবং সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করেন।

সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, উপউপাচার্য মো. সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ মো. ইসমাইল হোসেন ও রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদিরসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

এর আগে, শাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভর করা রিটের শুনানি ঘিরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা ‘প্রশাসনিক ভবন-১’-এ তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে ভবনে অবস্থান করা শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ কর্মচারীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

একই সময়ে নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ অবস্থার মধ্যেই হাইকোর্ট রিটের শুনানি শেষে শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিতের আদেশ দেন।

নির্বাচন স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সড়কে পুরোপুরি শাটডাউন ঘোষণা করেন। এতে সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং শ্রমজীবী মানুষ, রোগীসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরে একটি লেন ছেড়ে দেওয়া হলেও যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।

শাকসু নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে উপাচার্যসহ শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করেন। সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে। ছবি: টাইমস

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শাবিপ্রবি এলাকায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিকাল নাগাদ শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান নেন। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে প্রশাসনিক ভবন ও গোলচত্বরে তাদের বিক্ষোভ চলতে থাকে।

আন্দোলনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘শাকসু আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’, ‘শাকসু কয় তারিখ, ২০ তারিখ’, ‘মব করে শাকসু বন্ধ করা যাবে না’–এমন নানা স্লোগান দেন।

শিবির সমর্থিত দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে বহু প্রতীক্ষিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।’

সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা ভেবে সড়ক থেকে সরে এলেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

এদিকে আন্দোলনের সময় গণিত বিভাগের প্রধান ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি আশরাফ উদ্দিন শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন।

বিকালে সড়ক অবরোধ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক দিয়ে বের হওয়ার সময় কিছু শিক্ষার্থী তাকে উদ্দেশ করে স্লোগান দিলে তিনি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। পরে শিক্ষার্থীদের সহায়তায় তিনি নিরাপদে সরে যান। এ ঘটনায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, শাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা স্বতন্ত্র সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সালেহ মো. নাসিম বলেন, ‘যার রিটের কারণে ২৮ বছর পর হতে যাওয়া নির্বাচন স্থগিত হয়েছে, তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।’

এদিকে, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার বিকালে আবেদনটি করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী মো. সাদ্দাম হোসেন। তিনি জানান, শিগগির এ বিষয়ে শুনানি হবে।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর শাবিপ্রবিতে শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল আগামী মঙ্গলবার। সেদিন ভোটের নির্ধারিত দিন থাকলেও আদালতের আদেশে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad