চট্টগ্রামে সন্দেহভাজন ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করার সময় মিনিবাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত পুলিশ কনস্টেবল মো. আল আমিন সরদার মারা গেছেন।
রবিবার ভোর ৫টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশীদ।
নিহত আল আমিন সরদার মাদারীপুর সদরের উত্তর দুধখালীর আব্দুল হক সরদারের ছেলে। তিনি ২০২২ সালের ১৬ জুলাই বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। সকাল ১১টায় সিএমপিতে জানাজা শেষে পরিবারের লাশ পরিবারের হেফাজতে হস্তান্তর শেষে মাদারীপুর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এর আগে শনিবার সকাল ৬টার দিকে নগরীর জিইসি-লালখান বাজার সড়কে জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদের পশ্চিম গেটের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিএমপির রাত্রীকালীন টহলের অংশ হিসেবে কনস্টেবল আল আমিনসহ পুলিশের একটি দল ওয়াসা মোড় ও আশপাশের এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিল। সকাল ৬টার দিকে ওয়াসা মোড়ে তিনজনকে সন্দেহভাজন ছিনতাইকারী হিসেবে শনাক্ত করে পুলিশ তাদের থামার সংকেত দেয়। তবে তারা সংকেত উপেক্ষা করে জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদের দিকে পালিয়ে যায়।
পরে টাইগারপাস পুলিশ বক্সের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হিরণ মিয়ার নির্দেশে কনস্টেবল আল আমিন মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের ধাওয়া করেন।
এ সময় ওয়াসা মোড় থেকে লালখান বাজারের দিকে দ্রুতগতিতে ছুটে যাওয়া একটি মিনিবাস আল আমিনের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। মিনিবাসটি মোটরসাইকেলসহ তাকে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরে টেনে নিয়ে যায়। দুর্ঘটনায় তার মাথা ও দুই পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।
পরে পুলিশ সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুতর অবস্থায় তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ মিনিবাসটি জব্দ করে এবং চালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন (৩৮) ও সহকারী জয় দাসকে (৩০) গ্রেপ্তার করে। পরে এসআই মো. হিরণ মিয়া বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। মামলায় বাস মালিক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।


