২০২৪ সালের ১৯ জুলাই, ঢাকা শহরের সায়েন্স ল্যাব এলাকায় ছাত্র আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়। তিনি ছিলেন একজন ফ্রিল্যান্স ভিডিও জার্নালিস্ট। এর আগে তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘দ্য রিপোর্ট ২৪’-এর সাথে যুক্ত ছিলেন। মৃত্যুর ছয় মাস আগে তিনি চাকরি ছেড়ে ফ্রিল্যান্স ভিডিও জার্নালিস্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন।
১৯ জুলাই, বিকাল ৫টার দিকে প্রিয় যখন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন, তখন পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। একটি গুলি তার মাথায় লাগে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।
তার মা, শামসী আরা জামান, ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট নিউ মার্কেট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্টেশনের অফিসার ইনচার্জ এবং ৩০ থেকে ৩৫ জন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যদের হত্যার সঙ্গে জড়িত হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়।
ঘটনার এক মাস পর মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) ট্রান্সফার করা হয়।
তবে মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় প্রিয়’র পরিবার ন্যায়বিচারের বিষয়ে শঙ্কিত।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আশ্বাস দেওয়ার পরও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রিয়’র মা শামসি আরা। তিনি জানান, কর্মকর্তারা তাকে বলেছিলেন যে ৫ থেকে ৭ জনকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিচারের আওতায় আনা হতে পারে, তবে আইনি জটিলতায় সেই প্রক্রিয়া থেমে আছে।
টাইমস অব বাংলাদেশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘নিহতদের পরিবার চুপ থাকবে না। আমাদের সন্তানদের রক্ত বৃথা যাবে না। যারা ন্যায়ের জন্য আন্দোলন করেছেন, তারা পিছু হটবেন না। আগামীতে যেই সরকার আসুক না কেন, বিচার হতেই হবে।’
তিনি আরও বলেন, প্রিয়’র ছোট মেয়ে পারমিতা যে মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ‘সে সবসময় একটি পুতুল সঙ্গে নিয়ে ঘোরে, তাকে ডাকে ‘‘ডিয়ার ফাদার’’। কয়েক দিন আগে ভিডিও কলে আমাকে বলল, ‘আমার ডিয়ার ফাদার কবে আমাকে ফোন দেবে!’
তখন সে মুখ ফিরিয়ে কান্না লুকানোর চেষ্টা করেছিল শামসি আরা। বলেন, ‘এই শূন্যতা বলে বোঝানো যায় না।’


