শহরের ইকোলজিতে মানুষের পাশাপাশি সব প্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মূল লক্ষ্য জানিয়েছেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। তিনি বলেন, ‘শহর থেকে পথপ্রাণীদের সরিয়ে দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়; সহাবস্থানই আমাদের লক্ষ্য। প্রাণী সুরক্ষাকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’
বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিএনসিসি নগরভবনে আয়োজিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শহর গড়ে তুলতে পথপ্রাণী ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ নিয়ে ফারি ফ্রেন্ডস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে এ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করা হয়।
তিনি জানান, ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ শহরে বসবাস করবে। শহর কেবল অবকাঠামো ও মানুষের সমষ্টি নয়; এর একটি নিজস্ব ইকোলজি রয়েছে, যেখানে কুকুর, বিড়ালসহ সব প্রাণীরই স্থান আছে। একই সঙ্গে মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগরায়নের মাধ্যমেই একটি ন্যায্য শহর গড়ে তোলা সম্ভব মনে করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, প্রাণী সুরক্ষায় ডিএনসিসি ১০ জন ভেটেরিনারি সার্জন নিয়োগের উদ্যোগ নিচ্ছে। পাশাপাশি পথপ্রাণী সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় সিএনভিআর (ক্যাচ–নিউটার–ভ্যাকসিনেট–রিলিজ) কার্যক্রম বাস্তবায়ন, জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ, জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চুক্তি অনুযায়ী, ডিএনসিসি ও ফারি ফ্রেন্ডস ফাউন্ডেশন যৌথভাবে পথপ্রাণীদের টিকাদান কর্মসূচি চালাবে এবং মানবিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সিএনভিআর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। একই সঙ্গে নগরবাসীর মধ্যে প্রাণী কল্যাণ ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রমও চালানো হবে।
এই যৌথ উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো বর্জ্যকে পথপ্রাণীদের খাদ্যে রূপান্তরের ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে একদিকে নগরীর পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে পথপ্রাণীদের খাদ্য চাহিদা পূরণে একটি টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা যাবে বলে মনে করছে ডিএনসিসি।
সমঝোতা স্মারকে ডিএনসিসির পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরি এবং ফারি ফ্রেন্ডস ফাউন্ডেশনের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন তাসনিম সিনহা।


