স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় শুরু হওয়া ম্যাচ শেষ হলো রাত প্রায় ৯টায়! বৈরি আবহাওয়ার কারণে প্রথমার্ধের পর খেলা বন্ধ ছিল দুই ঘণ্টারও বেশি সময়। তবে প্রকৃতির এই ঝড়-ঝাপটার আগে ও পরে মাঠের ভেতরে আলো ছড়ালেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
ফ্রান্সের জার্সিতে নিজের শততম ম্যাচ খেলার ঐতিহাসিক উপলক্ষটি জোড়া গোল করে রাঙালেন এই তারকা স্ট্রাইকার। তার এমন জাদুকরী পারফরম্যান্সে ইরাককে অনায়াসে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে দিদিয়ে দেশমের দল।
ফিলাডেলফিয়ায় ‘আই’ গ্রুপের এই ম্যাচে ৩-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দলের হয়ে অন্য গোলটি করেন উসমান দেম্বেলে।
বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ৩টায় শুরু হওয়া ম্যাচটি যখন শেষ হয়, তখন দেশের ঘড়িতে সকাল প্রায় ৭টা। চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথম কোনো ম্যাচে প্রকৃতির এমন বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়ল।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই চোখধাঁধানো এক দূরপাল্লার গোলে দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন এমবাপ্পে। বিরতির পর মাঠে নেমে ম্যাচের ৫৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেন তিনি। অবশ্য এই গোলের পেছনে ইরাকের ডিফেন্ডারদের বড় ভুল ছিল।
আহমেদ কাসেমের ব্যাকপাসটি এতটাই জোরে ছিল যে ইরাকি গোলরক্ষক আহমেদ বাসিল বল নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। সেই ভুলের সুযোগ লুফে নেন উসমান দেম্বেলে। নিজে শট নেওয়ার সুযোগ থাকলেও সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে বল বাড়িয়ে দেন এমবাপ্পেকে। সহজ টোকায় বল জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি ফরাসি অধিনায়ক।
এই জোড়া গোলের পর চলতি আসরে মাত্র দুই ম্যাচেই এমবাপ্পের গোল সংখ্যা দাঁড়াল ৪-এ। আর সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে মাত্র ১৬ ম্যাচ খেলে তার গোল হলো ১৬টি। এর মাধ্যমে তিনি ছুঁয়ে ফেললেন বিশ্বকাপের সাবেক সর্বোচ্চ গোলদাতা জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসাকে। এমবাপ্পের সামনে এখন কেবল একজনই আছেন, তিনি ১৮ গোল নিয়ে এককভাবে চূড়ায় থাকা লিওনেল মেসি।
ম্যাচের শেষ দিকে ফ্রান্সের হয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন উসমান দেম্বেলে। এটি তার ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ গোল। এই গোলটির মূল কৃতিত্ব তরুণ উইঙ্গার মাইকেল ওলিসের। ডান প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে বল নিয়ে ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে বক্সের ভেতরে দেম্বেলেকে খুঁজে নেন ওলিসে। বল পেয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন দেম্বেলে।
টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করল ফ্রান্স। অন্যদিকে টানা দুই হারে টেবিলের তলানিতে থাকা ইরাকের জন্য নকআউটের পথ অনেকটা কঠিন হয়ে গেল।


