ঘড়িতে সময় তখন সকাল ৯টা ১৬ মিনিট। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের মূল মাঠে একে একে মাঠে ঢুকলেন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের সবাই। পরিবার-সহ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকেও দেখা গেল এক পাশে। শাহরিয়ার নাফিস, মোহাম্মদ আশরাফুল, তালহা জুবায়ের, আনোয়ার হোসেন মনির, হাবিবুল বাশার সুমন, মোহাম্মদ রফিকদের দেখা গেল বিশেষ এক পোলো টিশার্টে। সাথে ছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম-সহ বেশ কজন বোর্ড পরিচালকও। উপলক্ষ্য একটাই, বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্ট।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সময়মত শুরু হলো সংবর্ধনা। শততম টেস্ট উপলক্ষ্যে মুশফিককে বিশেষ ক্যাপ পরিয়ে দেন তার প্রথম টেস্টের অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। এরপর তার হাতে বিশেষ আরো একটি ক্যাপ ক্যাসকেট তুলে দেন বাংলাদেশের এক নম্বর টেস্ট ক্যাপধারী আকরাম খান।
দেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান ও বিসিবির বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছ থেকে মুশফিক পেয়েছেন সম্মাননা স্মারক। তখন উপস্থিত ছিলেন ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিম, যিনি মুশফিকের দীর্ঘ দিনের মেন্টর।
আয়োজনের অংশ হিসেবে মুশফিকের অভিষেক টেস্টের অধিনায়ক হাবিবুল বাশার ও শততম টেস্টের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত মিলে তার হাত তুলে দেন বিশেষ টেস্ট জার্সি। যেখান স্বাক্ষর ছিল মুশফিকের অভিষেক ও শততম টেস্টের সতীর্থদের।
এই সংবর্ধনায় আপ্লুত হয়েছেন মুশফিক। নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহর প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা যে তিনি আমাকে এই সুযোগ দিয়েছেন। আজকে এখানে উপস্থিত থাকা সবাইকে আমি ধন্যবাদ দিতে চাই। আমার পরিবারের সদস্যরা, আমার বাবা-মা, বিশেষ করে আমার স্ত্রী, যে অনেক বিনিদ্র রজনী পার করেছে, আমার সতীর্থরা, কোচরা, আমার বন্ধুরা এবং সকল সমর্থককে ধন্যবাদ জানাতে চাই। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাই। আমি সবসময়ের মতো নিজের শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করব। আশা করি সামনে ভালো হবে। আয়ারল্যান্ড দলকেও ধন্যবাদ। এখানে যুক্ত হওয়ার জন্য। আশা করি, দারুণ এক ম্যাচ কাটিয়ে এই উপলক্ষ্য উদযাপন করতে পারব।’
অধিনায়ক শান্তর কাছ থেকেও বার্তা পেয়েছেন মুশফিক, ‘অভিনন্দন! আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য দারুণ এক অর্জন। আপনার সঙ্গে খেলতে সবসময়ই ভালো লেগেছে। আপনাকে অনুসরণ করতে চেয়েছি এবং আপনার কাছ থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছি। আশা করি আপনি আরও অনেকদিন খেলবেন। সবাই আপনার মাঠের ‘ম্যাডনেস’ ও কঠোর পরিশ্রমের কথা বলে, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- আপনি ব্যক্তিগত মাইলস্টোনের জন্য নয়, দলের জন্য খেলেন। এটা আমাদের সবার জন্যই অনুপ্রেরণাদায়ক, বিশেষ করে সেই সব তরুণদের জন্য, যারা টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চায়।’


