ইরানের বিরুদ্ধে ‘৯/১১’-এর মতো ঘটনা সাজানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ লারিজানির
ইরানের বিরুদ্ধে ‘৯/১১’-এর মতো একটি হামলার ঘটনা ঘটিয়ে তার দায় তেহরানের ওপর চাপানোর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি।
আলী লারিজানি বলেন, ‘এপস্টেইনের গ্যাং’-এর সদস্যরা এমন একটি ঘটনা ঘটিয়ে তার দায় ইরানের ওপর চাপানোর পরিকল্পনা করছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নেতার নাম উল্লেখ করেননি।
তিনি বলেন, ইরান এমন কোনো সন্ত্রাসী পরিকল্পনার বিরোধী এবং আমেরিকান জনগণের সঙ্গে তেহরানের কোনো যুদ্ধ নেই।
লারিজানি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আলোচনা এমন সময় সামনে আসছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক গোপন নথি প্রকাশ করা হচ্ছে। এসব নথিতে প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ধনী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের সম্পর্কের তথ্য উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, এসব নথি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক ও সামাজিক অভিজাতদের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পৃক্ততার দিকেও ইঙ্গিত করে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৯ ব্যক্তি চারটি উড়োজাহাজ ছিনতাই করে যুক্তরাষ্ট্রে আত্মঘাতী হামলা চালায়। ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন।
সূত্র: আল জাজিরা
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় হামাস কর্মকর্তা নিহত
বার্তা সংস্থা এএফপিকে হামাসের একটি সূত্র জানিয়েছে, রোববার দক্ষিণ লেবাননের সাইদা এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামাস কর্মকর্তা উইসাম তাহা নিহত হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রটি নিশ্চিত করেছে, সাইদার উত্তরের একটি জেলার একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাটে এই হামলা চালানো হয় এবং এতে উইসাম তাহা প্রাণ হারান।
এর আগে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ওই আবাসিক ভবনে হামলার খবর প্রচার করেছিল। উপকূলীয় এই শহরটিতে লেবাননের বৃহত্তম ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির অবস্থিত। ইসরায়েল
এর আগেও হামাসকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি জানিয়ে এই এলাকায় একাধিকবার হামলা চালিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দ্রুত সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ
সৌদি আরবে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দ্রুত দেশটি ছাড়ার জরুরি নির্দেশ দিয়েছে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।
এক জরুরি নিরাপত্তা সতর্ক বার্তায় দূতাবাস জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তাই এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
সূত্র: গালফ নিউজ
ইসরায়েলে গত ২৪ ঘণ্টায় শতাধিক ব্যক্তি আহত
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে গত ২৪ ঘণ্টায় আহত ১০৮ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দ্য টাইমস অব ইসরায়েল পত্রিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, এ ১০৮ জনের আহত হওয়ার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য মন্ত্রণালয় দেয়নি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ক্ষেপণাস্ত্র বা রকেট হামলার জেরে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে আহত হয়ে থাকতে পারেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে ইরান।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ রোববার সকাল পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ১৯৫ জন ইসরায়েলিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে এখন ৮১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরানে হামলায় ১৫৩ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানজুড়ে অন্তত ১৫৩টি স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম।
তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থাপনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো। মোট ১৫৩টি ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্য ইউনিটের মধ্যে ৫৬টি হলো পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা হাসপাতাল যা স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে।
এছাড়া কয়েকটি মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিও হামলার সম্মুখীন হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পশ্চিম ইরানের শহর কেরমানশাহতে অবস্থিত কেরমানশাহ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অন্তত ৪২টি ইউনিট ক্ষতির শিকার হয়েছে।
মধ্য ইরানের শহর ইসফাহানের মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির অন্তত ১৯টি ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা তাসনিম আরও জানিয়েছে, এসব হামলার ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পর ২৪৮ জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
লেবাননে হিজবুল্লাহর ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি ইসরায়েলের
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। শনিবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েল জানায়, হিজবুল্লাহর বিশেষ বাহিনীর কয়েকটি কমান্ড কেন্দ্র হামলা চালিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) দাবি অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর অভিজাত ইউনিট রাদওয়ান বাহিনীর কমান্ড কেন্দ্রগুলো। এসব কেন্দ্র থেকেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হতো।
একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের আল-কাত্রানি এলাকায়ও হামলার দাবি করেছে তেলআবিব। আইডিএফ জানিয়েছে ওই এলাকায় হিজবুল্লাহর একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ কেন্দ্র লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র চলমান উত্তেজনার মধ্যে লেবাননও এখন সংঘাতের বড় অংশে পরিণত হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননেও ইসরায়েলি হামলা বেড়ে গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের মধ্যে ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮২৬ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপত্তার জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলে আহত ১০৮ জন

ইরানের হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলে অন্তত ১০৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়, আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে কে কিভাবে আহত হয়েছেন সে বিষয়ে ইসরায়েলি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিস্তারিত না জানালেও টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, কিছু আহত ব্যক্তি সরাসরি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা লেবাননের রকেট হামলার শিকার হননি। অনেকে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আহত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট তিন হাজার ১৯৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮১ জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে গ্রেপ্তার ২০
ইসরায়েলের সহযোগী অভিযোগে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। দেশটির উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের প্রসিকিউটরের অফিসের এক বিবৃতির বরাতে আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, এই ব্যক্তিরা ইসরায়েলের হয়ে ইরানে গুপ্তচরবৃত্তি করছিলেন এবং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও স্থাপনার তথ্য ইসরায়েলি বাহিনীকে সরবরাহ করছিলেন।
প্রসিকিউটরের অফিসের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইহুদি শাসনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি নেটওয়ার্ক, যারা সামরিক, আইন প্রয়োগকারী এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য ইসরায়েলকে পাঠাতে সহযোগিতা করছিল, তাদের ধরপাকড় করা হয়েছে। ২০ জনকে আদালতের নির্দেশক্রমে গ্রেপ্তার ও কারাগারে রাখা হয়েছে।’
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলার নতুন ধাপ শুরু করেছে। তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু মূলত নিরাপত্তা চেকপোস্ট এবং সেগুলোতে হামলার জন্য স্থানীয় গুপ্তচরের দেওয়া তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
নেতানিয়াহুকে হত্যার প্রতিশ্রুতি আইআরজিসির

ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যেকোনো মূল্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হত্যা করা হবে।
সংঘাতের শুরু থেকেই তারা নেতানিয়াহুকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে এবং তাকে অনুসরণ করছে বলেও জানায় ইরানের সামরিক বাহিনী।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে ‘শিশু হত্যাকারী’ আখ্যা দিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেয় আইআরজিসি। ইরানি গণমাধ্যমে ওই বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
এতে বলা হয়, ‘ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যদি এখনও জীবিত থাকেন, তবে তাকে খুঁজে বের করে সর্বশক্তি দিয়ে হত্যা করা হবে।’
ইরানের দাবি, গাজা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ঘটানোর জন্য নেতানিয়াহু দায়ী।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়া অত্যন্ত গুরুতর কূটনৈতিক ও সামরিক বার্তা। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলেও শঙ্কা জানান তারা।
যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চায় লেবানন

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থামাতে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখিয়েছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট। এক দশকের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থায় আছে লেবানন।
এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই উদ্যোগের পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক মহল এখন চেষ্টা করছে যাতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সম্ভাব্য স্থল অভিযান বন্ধ করা যায়। একই সঙ্গে দেশটির রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরগুলো ধ্বংসের যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, সেটিও ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।
গত সপ্তাহে ইসরায়েলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা অবশ্য লেবাননে স্থল অভিযানের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ বলেন, প্রয়োজনে বৈরুত ও এর দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোর অবস্থা গাজার দক্ষিণাঞ্চলের শহর খান ইউনিসের মতো করে দেওয়া হতে পারে। ইসরায়েলি অভিযানে খান ইউনুস শহরের বড় অংশ এরইমধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের সংঘাত বন্ধ ও সমঝোতায় এরইমধ্যে ফ্রান্সের মধ্যস্থতা ও পরিকল্পনার খবর প্রকাশ পেয়েছে। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে চলমান সংঘাত বন্ধের পাশাপাশি লেবাননের পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পথ তৈরি করা।
সেইসঙ্গে সবশেষ লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধে ২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তার শর্তগুলো আবার কার্যকর করা। ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার করার কথা ছিল। তবে গত প্রায় ১৫ মাসেও তারা পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে, যা ওই চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছিল, লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে তাদের অস্ত্র ও সামরিক উপস্থিতি সরিয়ে নেবে। এই শর্তও এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি।
তবে শনিবার সন্ধ্যায় ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমন কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকার কথা অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, ফ্রান্স কেবল লেবাননকে সহায়তা করতে এবং প্রয়োজন হলে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পথ সহজ করতে আগ্রহী।
অন্যদিকে ফরাসি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, এমন একটি পরিকল্পনা বাস্তবে আলোচনা হয়েছে। ফ্রান্স চাইছে এতে যুক্তরাষ্ট্রকেও সম্পৃক্ত করতে এবং বৃহত্তর কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই পরিকল্পনাকে সামনে আনতে।
ইসরায়েল, কুয়েত, ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের

ইসরায়েল, ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়।
এতে বলা হয়, তাদের ছোড়া ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকাগুলোতে আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবের বিভিন্ন স্থানে হামলার পর সেখানে ক্রমাগত অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শোনা যাচ্ছে এবং আহত ও নিহতের সংখ্যা বাড়ছে বলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে।
এসব হামলা তেল আবিবের শিল্প খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে বলেও দাবি করেছে ইরান। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, তারা ইরাকের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে।
ওই হামলায় ইরাকের কুর্দি অঞ্চলের এরবিল শহরের কাছে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের হারির বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এর একটি হলো আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং অন্যটি আরিফজান ঘাঁটি।
ইরানের দাবি, শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এসব ঘাঁটির শক্তিমত্তা ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে এসব হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের হামলার মুখে মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরাক ছাড়ার নির্দেশ

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি দূতাবাসের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছিল।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, শনিবার সকালে মার্কিন দূতাবাসে ওই হামলার পর থেকে ইরাকের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। উত্তরাঞ্চলের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাতেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে।
এতে ইরাকে অবস্থানরত সব মার্কিন নাগরিককে যত দ্রুত সম্ভব দেশটি ত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরাকের উত্তরাঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেখানে এক ফরাসি সেনা নিহত হন বলে জানা গেছে। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন কেবল আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং বিভিন্ন বিদেশি বাহিনীও এর ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
এদিকে বিভিন্ন ইরাকে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সম্পর্কে তথ্য দিলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, কিছু গোষ্ঠী একজন মার্কিন নাগরিকের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ এক লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার কথা বলেছে।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ১৪

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, প্রথম দফার হামলায় দক্ষিণাঞ্চলের শহর সাইদা এবং আল-কাত্রানি এলাকায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এই দুই হামলায় সাতজন নিহত এবং আটজন আহত হন।
এরপর আরেকটি হামলা চালানো হয় দক্ষিণাঞ্চলের শহর নাবাতিয়েহ–এর নুনস এলাকায়। ওই হামলায় আরও সাতজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে চারজনই শিশু ।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২৬ জনে। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা।
এছাড়া চলমান সংঘাতের কারণে লেবাননে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখন পর্যন্ত আট লাখ ৩১ হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা


